প্রতিশ্রুতির পরও রুশ হামলা চলছে

প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং চেরিনিহিভে হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেখানে বোমা বর্ষণ করছে রুশ সেনারা। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এরই মধ্যে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তুরস্কের অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আগেই রুশ প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেছেন, মারিউপোলে আত্মসমর্পন করলেই বোমা বর্ষণ বন্ধ করা হবে। এদিকে রুশ যুদ্ধবন্দিদের ওপর কাছ থেকে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া  ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ওই এলাকায় রাশিয়ার হামলার তীব্রতা কমেনি। যদিও ওই এলাকায় সামরিক কার্যক্রম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস এক টেলিগ্রাম বার্তায় রুশ প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন। চেরনিহিভ অঞ্চলে রাশিয়া রাতভর বোমা বর্ষণ করেছে দাবি করে তিনি লেখেন, ‘আমরা কি এতে (রুশ প্রতিশ্রুতি) বিশ্বাস রাখবো? অবশ্যই না।’ মঙ্গলবার রাশিয়া জানায় চেরনিহিভ এবং রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলে অভিযানের তীব্রতা কমানো হবে। তবে গতকাল বুধবার প্রথম প্রহরে কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন শোনা যায়।

কিয়েভের ডেপুটি মেয়র মাইকোলা পোভোরোজনিক জানিয়েছেন, রাজধানীতে রাতভর বোমা বর্ষণ হয়নি, কিন্তু আশেপাশের এলাকায় লড়াইয়ের বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। তাদের ধারণা পূর্বাঞ্চলে মনোনিবেশ করতেই এসব সেনা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সান্ডার ফোমিন জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনায় পারস্পারিক বোঝাপড়া বাড়াতে মস্কো ধারাবাহিকভাবে সামরিক কর্মকাণ্ড কমাবে।

মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুদ্ধের অবসানের লক্ষে তিন ঘণ্টা আলোচনায় করে মস্কো ও কিয়েভের প্রতিনিধিরা। ইউক্রেন নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় তারা। রুশ আগ্রাসনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যবহারিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

  • কিছু রুশ ইউনিট ইউক্রেন ছেড়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর কিছু ইউনিট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে নিজ দেশ এবং প্রতিবেশী বেলারুশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এমন দাবি করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার বিÌটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং কিছু সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি রাশিয়ার অভিযানকে প্রভাবিত করছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাশিয়ার ইতিমধ্যে ধুঁকতে থাকা সামরিক সরঞ্জামের ওপর আরও চাপ বাড়াবে। এতে বোঝা যায়, ইউক্রেনের মধ্যে সম্মুখ অঞ্চলগুলোতে নিজেদের ইউনিটগুলো পুনর্গঠনে জটিলতায় পড়েছে রাশিয়া। স্থল অভিযানে কমে যাওয়া সামর্থ্য রাশিয়া গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারে বলেও মনে করছে মন্ত্রণালয়।

  • ইউক্রেন আহাম্মক নয়: জেলেনস্কি

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেইনের জনগণ আহাম্মক নয়। হামলার ৩৪ দিনে এবং ডনবাসে গত ৮ বছরের যুদ্ধে তারা শিখেছে, কেবল সুনির্দিষ্ট ফলেই আস্থা রাখা যায়। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলছে, কিছু এলাকায় সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সম্ভবত বিভিন্ন ইউনিটের পালাবদল ও অন্যদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন বলে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলেনস্কির মতো তার পশ্চিমা মিত্ররাও রাশিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, কোনো পদক্ষেপ দেখার আগে আমি এর কোনও কিছুই পড়ে দেখবো না’। মঙ্গলবার পেন্টাগন বলেছে, রাশিয়া কিয়েভের আশপাশ থেকে খুবই সামান্য পরিমাণ সেনা সরানো শুরু করেছে; এই পদক্ষেপ পিছু হটা বা যুদ্ধ থেকে সরে যাওয়া না হয়ে জায়গা বদলও হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রাশিয়া সম্ভবত এখন অন্য এলাকাগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দোনেত্স্ক ও লুহানস্কে হামলা জোরদার করতে চাইছে।

  • আত্মসমর্পন করলেই বোমা বর্ষণ বন্ধ : পুতিন

প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেছেন, মারিউপোলে ইউক্রেন সেনারা আত্মসমর্পন করলেই বোমা বর্ষণ বন্ধ করা হবে। রুশ সচিবালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে এক ঘন্টার ফোনালাপে প্রে‌সিডেন্ট পুতিন এই কথা বলেন। তবে ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এদিকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়ার মধ্যে মুখোমুখি বৈঠকের পরদিন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, বৈঠকে এমন বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি যা নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়। যেটা ইতিবাচক তা হলো ইউক্রেনিয়ানরা অন্তত কাগজে-কলমে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এতদিনে অন্তত সেটা হাতে পাওয়া গেছে বলে গতকাল বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, বাকিটা যা হয়েছে, তাকে আমরা বড় কোনো অগ্রগতি বলতে পারিনা। খুব বেশি আশা করার মত কিছু নেই। পেসকভ বলেন, ক্রিমিয়া রাশিয়ার অংশ এবং রাশিয়ার কোনো ভৌগলিক অঞ্চল নিয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গে কোনো ধরণের মীমাংসা আলোচনা রাশিয়ার সংবিধানে নিষিদ্ধ।

  • মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে নিতে চায় চীন

ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যেই চীন সফরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে এটিই তার প্রথম সফর। ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে আরো উন্নত করতে বদ্ধ পরিকর বেইজিং। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বেইজিং রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের অবৈধ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। -বিবিসি ও আলজাজিরা