দিনাজপুরে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি লোহার খনির অনুসন্ধান চালানোর পর সেই খনিগুলো আলোর মুখ না দেখলেও আরও একটি লোহার খনির অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিকভাবে কূপ খননকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)। ২৫ মার্চ দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের কুতুবপুর এলাকায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপমহাপরিচালক ভূতত্ত্ব আব্দুল বাকী খান মজলিশ এই কূপের খননকাজ উদ্বোধন করেন।
আব্দুল বাকী খান মজলিশ বলেন, ‘বাংলাদেশ খনিসমৃদ্ধ দেশ নয়, এ দেশে খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও কম। সম্ভাবনা যা-ই থাকুক না কেন আমরা আশাবাদী থাকব। আমাদের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কাজই হচ্ছে আশা ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা। তাই এখন শুধু আমাদের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। খননকাজ শেষ করে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। এর আগে এখানে কী আছে বলা মুশকিল।’
তবে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরিকের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশা করছেন তারা। পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে রাস্তার পাশে সম্ভাব্য খনিটির অবস্থান চিহ্নিত করেছে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর।
ঐ এলাকার মানুষ আশা করছেন, এটি চালু হলে এই এলাকার বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মোস্তফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান প্রামাণিক বলেন, ‘লোহার খনি পাওয়া গেলে এই এলাকার বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এলাকার মানুষের উন্নতি হবে। খনিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’
ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আলী আকবর বলেন, ‘নতুন খনিতে লোহার কাঁচামাল আকরিকের পুরুত্ব অনেক বেশি। তাই লোহার সঙ্গে তামাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশা করছি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিয়ে এসেছি। আমাদের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’ খনির কূপ খননকাজের দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) শহিরুল ইসলাম ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ২ এপ্রিল পাশের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়ন কেশবপুর মৌজায় একটি খনির সন্ধানে ড্রিলিং (খনন) কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রায় এক মাস কার্যক্রম চালানোর পর চলে যান ভূতত্ত্বের কর্মকর্তারা। তারও আগে ২০০১ সালে পার্বতীপুর উপজেলার আমবাড়ীতেও তামার খনি পাওয়ার আশায় কূপ খনন করা হয়েছিল। এ ছাড়া হাকিমপুর উপজেলার মুর্শিদপুরের ভূগর্ভে একটি ম্যাগনেটাইট লোহার খনি সম্ভাবতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) খননকাজ করলেও এসব খনি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।