বাংলাদেশের রোটারিয়ান ও রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ম্যাভেরিক্সের সদস্য মমতাজ ফারুকী চৌধুরী রোটারি ও ইউনিসেফের যৌথ সম্মাননা ‘রোটারি পিপল অব একশন: চ্যাম্পিয়ন্স অব গার্লস এম্পাওয়ারমেন্ট’-এ ভূষিত হয়েছেন।
ইউনিসেফ হেডকোয়ার্টারে ২৫ ও ২৬ মার্চ, দুদিনব্যাপী ‘রোটারি ডে উইথ ইউনিসেফ’ সম্মেলনে মমতাজ ফারুকী চৌধুরীসহ বিশ্বের ছয় সমাজসেবীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। মমতাজ ফারুকী চৌধুরী বাংলাদেশের রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ম্যাভেরিক্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ক্লাবটি বিশ্বের ৩৫ হাজার রোটারি ক্লাবের মধ্যে একমাত্র ক্লাব যার সদস্যরা এই সম্মানে একাধিকবার ভূষিত হয়েছেন।
২৫ মার্চ রোটারির ইউটিউবে চ্যানেলে 'রোটারি ডে উইথ ইউনিসেফ ২০২২' অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়, যার স্লোগান ছিল 'এম্পাওয়ারিং গার্লস'।
মেয়েদের জন্য কেমন করা নিরাপদ সমাজ গড়া হবে, করোনা পরবর্তীকালে সমাজে তা কোন দৃষ্টিতে দেখা হবে—এ সকল বিষয়ে আলোচনা করা ওই অনুষ্ঠানে। এতে বিভিন্ন দেশের রোটারিয়ানরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মমতাজ ফারুকী চৌধুরী 'এম্পাওয়ারমেন্ট' হিসেবে এক তরুণীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'হালিমা একজন এতিম শিশু ছিল, যে আমাদের ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও আশ্রয়ের জন্য আমাদের ইন্সটিটিউটটি কাজ করে। সেখানে আমরা তাদের নেতৃত্বগুণ শেখাই, আত্মনির্ভরশীল হতে শেখাই।'
তিনি বলেন, '২৫ বছরবয়সী হালিমা করোনা মহামারীর সময় তার চাকরি হারায়। ঢাকার বৃহত্তম বস্তি করাইলে নিজের শিশুসন্তান ও প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে সে। হালিমা জানতো, পরিবার চালানোর জন্য তাকে কিছু একটা করতেই হবে। তাই সে রিটেইল বিজনেসের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখে নেয়। এর মাধ্যমে সে আবারও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। ইন্সটিটিউটে শেখা বিষয়গুলো তাকে নিজের ব্যবসা তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রথম ধাপে তাকে ৫০ ডলারের একটি অনুদান দেওয়া হয়। মাত্র তিন সপ্তাহেই এই অর্থের পরিমাণ পাঁচ গুণ বাড়াতে সক্ষম হয় সে। পরবর্তীতে তাকে আবারও ১৫০ ডলার প্রদান করা হয়। হালিমাকে যখন আমি প্রশ্ন করেছি, কেমন করে তুমি সম্পূর্ণ নতুন একটা ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে, তখন সে বলেছে ইন্সটিটিউটে শেখা বিষয়গুলোই তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নেবার সাহস দিয়েছে। এটিই মেয়েদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন।'