গতকাল শুক্রবার খুলনায় পাথর নিক্ষেপ করে ট্রেনের চালককে আহতের ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। আটক দুই জন হচ্ছে, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ও গোপালগঞ্জ জেলার কাজলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা নগরীর খানজাহান আলী থানার যোগীপোল এলাকার আদর্শ নূরানীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফ্জ শাখার ছাত্র। ঐ মাদ্রাসার এক শিক্ষক দাবি করেন, ‘শিশু ছাত্র অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছে। তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত।’
খুলনা রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খবীর আহমেদ বলেন, খুলনা থেকে বেনাপোলগামী বেতনা এক্সপ্রেস (বেনাপোল কমিউটার) ট্রেনটি গতকাল সকাল ৭টার দিকে খুলনা রেল স্টেশন থেকে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রেনটি পৃষ্ঠা খানজাহান আলী থানার যোগীপোল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে ট্রেনকে লক্ষ্য করে কয়েকটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়। পাথরের আঘাতে ট্রেনের চালক গাজী মারুফ আহত হন। তার ঠোঁট ও মুখ ফেটে রক্ত বের হয়। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেন তিনি। এরপর রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করে। এ ব্যাপারে খুলনা জিআরপির পুলিশ সুপার রবিউল হাসান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তিনি বলেন, ট্রেন একটি নিরাপদ ভ্রমণ ব্যবস্থা। যাত্রীদের কাছে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য মূলত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটানো হয়। গত কয়েক মাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে একমাস ধরে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। এ ঘটনায় ঐ দুই মাদ্রাসা ছাত্রের বিরুদ্ধে দেশের রেল আইন অনুযায়ী মামলা হবে।
আটক হওয়া এক ছাত্র সাংবাদিকদের জানায়, রাস্তার ওপরে কয়েকটি কুকুর মারামারি করছিল। তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছিলাম। সেখান থেকে একটি পাথর ট্রেনে গিয়ে লাগে। ভয়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে মাদ্রাসায় চলে যাই। পরে পুলিশ আটক করে।