ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবন এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাহিরে থেকে ভবনটি একেবারেই পরিপাটি। কিন্তু ভেতরে গিয়ে দেখা যায় একেবারেই অন্যচিত্র। বিভিন্ন কক্ষে খসে পড়ছে ছাদের ঢালাই, পলেস্তার। এছাড়া অধিকাংশ দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়েছে। স্কুলটির বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষকরা। এ কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরাও।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ বশীর উদ্দীন জানান, ১৯৪২ সালে কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬০ সালে কক্ষের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণের পর থেকে এখানেই স্কুলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৮শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬০ সালে নির্মিত এ বিদ্যালয় ভবনে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্কুল ভবনে বড় বড় শেল পড়ায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে শ্রেণি কক্ষগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের ঢালাইসহ পলেস্তার ও দেয়ালের পলেস্তাড়া খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময়ে ছাদ ছুঁয়ে পানি পড়ছে মেঝেতে। অনেক কক্ষেও তেমন ভালো দরজা-জানালা নেই। ফলে সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অবস্থা দিনদিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পাঠদান চালু রাখার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে চলছে পাঁচটি শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাস।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আহম্মেদ টিনা বলেন, ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরণের দুঘর্টনা ঘটতে পারে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে বিস্তৃত ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে থাকে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান বলেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ১৯৬০-৬১ সালে নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় ভাবে স্কুল ফান্ডের থেকে ভবনটি মেরামত করা হয়েছিল। বর্তমানে স্কুল ভবনটি খুবই খারাপ অবস্থা। আমাদের স্কুলটিতে এসএসসি, এইচ এসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত দুই বছর আগে কারিগরি অধিদপ্তরের (স্বেচিব) থেকে একটি একতলা বিল্ডিং নির্মাণ করা হয় সেটিতে কারিগরি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে। দুই বছর আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কে জানানো হয়েছে। বর্তমানে কামারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৪তলা বিশিষ্ঠ একটি নতুন ভবন দিলে এ বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা বলেন, কামারখালী স্কুলভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে।ভবনটির অবস্থা ভাল না। স্কুলটিতে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপফতরকে জানাতে পারেন। স্থানীয় এমপি মহাদয়ের সুপারিশ হলে ভবন পাওয়া যেতে পারে। আবার অপদকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ডের থেকেও মেরামত করা যেতে পারে।