চলতি বছরে বাজেট বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে অর্থ সংস্থানের উপায় খোঁজা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে দুটি মন্ত্রণালয় ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, সারসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে সরকারের ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে বাজেটে রাখা ভর্তুকি বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে ভর্তুকি ব্যয় মেটাতে বাড়তি বরাদ্দের এই চাপ এসেছে। বছর শেষ হতে আরো সময় বাকি থাকলেও চলতি বছরের বাড়তি বরাদ্দ এবং নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ প্রক্ষেপণে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ, বিশ্ব জুড়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির নানা উপলক্ষ্য এখনো বিদ্যমান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা শেষ হয়েও শেষ হয়নি এমন পরিস্থিতি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিকে বেশি সংকটে ফেলে দিয়েছে। এ সময় রাজস্ব আদায়েও প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। উন্নয়ন ব্যয়েও পিছিয়ে। কিন্তু দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে এবং বাড়তি মূল্যের কারণে চাপ বেড়েছে।
এদিকে, অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাদবাকি সময়ে অতিরিক্ত ভর্তুকির কারণে বাজেটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে এটিই স্বাভাবিক। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত মাসে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দের ৭১ শতাংশ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এরপরও বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভর্তুকি বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চাহিদা দিয়েছে। ভর্তুকির অর্থ চাওয়ার দিক থেকে শীর্ষ দুই মন্ত্রণালয় হচ্ছে— কৃষি ও জ্বালানি। তারা ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি অতিরিক্ত অর্থবরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, বিদু্যৎ, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স খাতে মোট ২৮ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত এই সাত মাসে ব্যয় করা হয়েছে ২০ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ৭১ শতাংশ।
সাত মাসে ভর্তুকি প্রাপ্তির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ভর্তুকির অর্থ ছাড় করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বিদু্যৎ খাতে ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বিপরীতে ছাড় হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে রপ্তানি খাতের ৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার ভর্তুকি বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সাত মাসে ব্যয় করা হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। রেমিট্যান্স খাতে খরচ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এখাতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রেমিট্যান্স প্রণোদনার হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এ খাতে প্রণোদনা পরিমাণ সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে ইতোমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয় ৩২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে।