মির্জাপুরে জন্ম ও মৃত্যুর সনদ পেতে ভোগান্তি

পাসপোর্ট, বিবাহনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে সব বয়সের জন্ম সনদ প্রয়োজন। তবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম-মৃত্যুর সনদ পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও সনদ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, সনদ পেতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এসব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অনেকেরই হাঁসফাঁস অবস্থা। 

সরজমিনে দেখা যায়, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম-মৃত্যুর সনদ পেতে এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে এনআইডি কার্ডে বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন নিয়ে শত শত লোক ভিড় করছেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় কম্পিউটারে সফটওয়ার আপডেট না থাকাসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। চাওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে গোড়াই ইউনিয়নের বাসিন্দা রুমেজা বেগম (৩৫), জামুর্কি ইউনিয়নের কহিনুর মিয়ার স্ত্রীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মৃত্যু সনদ পেতে মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল জন্ম সনদ, স্বামী-স্ত্রীর, বাবা-মায়ের ডিজিটাল সনদ এবং ভোটার আইডি কার্ডসহ যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ০-৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্ম সনদে বাবা-মায়ের আইডিসহ আরো যেসব শর্ত রয়েছে, তাতেও চরম ভোগান্তি হচ্ছে। দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় ঘুরেও অনেকেই জন্ম-মৃত্যুর সনদ না পেয়ে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারছেন না।

ভোগান্তির কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর বলেন, প্রতিদিন লোকজন আসছে জন্ম-মৃত্যুর সনদ নিতে। তবে এতে তাদের কোনো গাফিলতি নেই। সরকারের বেঁধে দেওয়া নানা শর্তের কারণেই লোকজনের হয়রানি হচ্ছে। শর্তগুলো শিথিল করার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কতৃ‌র্পক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নির্বাচন কর্মকর্তা শরিফা বেগম বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা বিভিন্ন সংশোধন নিয়ে আবেদন করছেন, অফিসের সার্ভারে নিয়মিত তাদের কাজ করা হচ্ছে। তবে অফিসের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম-মৃত্যুর সনদ নেওয়ার জন্য আবেদন নিয়ে অনেক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী অফিসে ভিড় করছেন। এটা তাদের জন্য বাড়তি একটি চাপ। নিয়মকানুন শিথিল করে সাধারণ লোকজন যাতে সহজে জন্ম-মৃত্যুর সনদ পেতে পারেন, বিষয়টির দিকে সংশ্লিষ্ট কতৃ‌র্পক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।