জঙ্গিবাদকে অন্যান্য অপরাধের মতো আইনি সহায়তা দিলে তা হবে আত্মঘাতী, বলে মন্তব্য করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। এ সময় জঙ্গিবাদকে ভিন্নভাবে দেখতে আইনজীবীদের অনুরোধ জানান তিনি। রবিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অনুরোধ জানান।
আইনজীবিদের জঙ্গিদের পাশে না দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'টাকা দিলেই জঙ্গিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন না। চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অন্য ৮-১০টি অপরাধের মতো জঙ্গিবাদকে দেখবেন না, দেখলে তা হবে আত্মঘাতী। জঙ্গিরা আদালতেও হামলা করেছে, কেউ তাদের আওতার বাইরে নয়। আপনারা যাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের আবার কোর্টে হাজির করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু তারা প্রায় সবাই পলাতক। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, জঙ্গিদের বিষয়টাকে আপনারা ভিন্নভাবে দেখবেন।'
আইনের ফাঁক গলে জঙ্গিরা বের হয়ে যাচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আইনের কোন সমস্যা নেই, আইন প্রয়োগে সমস্যা থাকতে পারে। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় তিন পর্যায়েই জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রয়েছে। তবে নিজস্ব গোয়েন্দাদের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অপতৎপরতা বা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে আমরা প্রস্তুত আছি।'
তিনি জানান, 'জামিনে পলাতক থাকা জঙ্গিরা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, তারা বেশিদিন এ তৎপরতা চালাতে পারবে না। হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১২ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০০ জন জামিনে আছেন, যাদের অধিকাংশই পলাতক।'
আরও পড়ুন: রাঙামাটির নির্মাণাধীন ভবনে মাটিচাপায় নিহত ৩
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, 'রমজানের শুরু থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো ঘিরে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাস-ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে র্যাবের ১৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সড়কে যানজট এবং দূর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে দেশজুড়ে ৪২টি স্থানে র্যাবের নজরদারি রয়েছে। তবে এবার সড়ক এবং নৌপথে ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, রেলপথে কিছুটা বিলম্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'ঈদে বাড়িতে যাত্রা এখনও স্বস্তিদায়ক রয়েছে, আশা করছি ফেরার যাত্রাও স্বস্তিদায়ক হবে। আমরা চাই না, সড়কে কোনো প্রাণহানি ঘটুক। সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে ঈদ উৎসবটি নিরাপদ করার ব্যবস্থা করা হবে। দেশজুড়ে র্যাবের সর্বোচ্চ উপস্থিতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঈদে ফাঁকা শহরগুলোতে যে কোনো অপরাধ রুখতে আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।' এ সময় অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশবাসীর জন্য ঈদ উদযাপন নিরাপদ করতে পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি