১৪ লিচুবাগানেই মৌচাষির মুখে হাসি  

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ১৪ টি লিচু বাগানে বাক্স বসিয়ে সোয়া কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪৮ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করেছেন মৌচাষিরা।

মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি মুকুলে মুকুলে পরাগায়নের ফলে এ বছর বাগানের প্রতিটি গাছেই ২৫ ভাগ বেশি লিচু ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। লিচু বাগান পরিচর্যা খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ লাভ পাওয়ায় এলাকার অনেকেই আবাদি জমিতে লিচু বাগান গড়ে তুলছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি লিচু বাগানেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছের পাতা।

লিচু বাগান পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা

উপজেলারপুনট্টি ভিয়াইল ইউনিয়নে লিচু বাগানগুলোতে ব্যাপক মুকুল এসেছে। লিচু বাগান মালিক হানিফ খান ও আরিফ হোসেনের বাগানগুলোতে প্রায় দু’শতাধিক লিচু গাছ থাকায় টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ চাষিরা ১৪টি বাগানে প্রতিটিতে ১০০ থেকে ১৫০ টি করে ছোটবড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মধু সংগ্রহ করছেন। 

মৌচাষি দুলাল হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদ্ভাবিত মৌচাষ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। বাগানে দুই শতাধিকের বেশি ব্রড ও নিউক্লিয়াসনামের ছোটবড় কাঠের বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রাণী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছিসহ অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করে। ১০ হতে ১৮ দিন অন্তর অন্তর প্রতিটি বাক্স হতে চাষিরা ৬ হতে ৭ মণ মধু সংগ্রহ করে থাকেন মৌ চাষিরা। যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয়, সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভালো হয়। ফলে ওই গাছের বাগানে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকে। তেমনি মৌচাষিরা বেশি মধু সংগ্রহ করতে পারেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাগান থেকে মৌচাষিরা প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ মণ মধু সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, চলতি বছর প্রতিটি লিচু বাগানে ভালো মুকুল এসেছে। আর এ কারণে প্রচুর মৌমাছির আগমন দেখা দিয়েছে। লিচুগাছ থেকে মৌমাছি মধু আহরণের ফলে বেশি পরাগায়ন ঘটে। এতে করে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ লিচুর ফলন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া বর্তমানে মৌচাষিদের দ্বারা উৎপাদিত মধু দেশের অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের মধুর চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।