যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘‘স্বাধীনতা লাভের পর উল্লেখযোগ্য প্রথম পাঁচ দশকের মধ্য দিয়ে, আমি মনে করি যে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো কোনো অংশীদার খুঁজে পায়নি। আমরা আগামী ৫০ বছরেও সেই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’’
হাস উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের জনগণ উভয়ের একই লক্ষ্য: একটি গতিশীল, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ গণতন্ত্র, বিচারিক জবাবদিহিতা এবং সবার জন্য মৌলিক মানবাধিকার।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘আমাদের দুটি দেশ পরস্পরের মিত্র। বাংলাদেশ অভিন্ন লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য কয়েক দশক ধরে আমাদের অংশীদারিত্বের উপর নির্ভর করতে পারে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের রূপান্তর বিস্ময়কর।’’
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলির অন্ধকার থেকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম জাতি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে যখন এর অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল, অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছিল এবং দেশের অগণিত সেরা মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি বাংলাদেশী জনগণের প্রয়াস, সমস্যা কাটিয়ে ওঠার বিচক্ষণতা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রশংসা করেন। কারণ দেশটি স্বাস্থ্য ও সাক্ষরতার ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করেছে, ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন অর্জন করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার কথা স্মরণ করে হাস বলেন, ‘‘১৯৭২ সালের এই তারিখে আমরা প্রথম বন্ধুত্বের হাত ধরেছিলাম, তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে।’’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শিকার বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানোর জন্য একটি সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা রয়েছে কারণ উভয় দেশই স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছে, গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ এবং তারা শিখেছে যে গণতন্ত্র একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে অনেকেই একই কাজ করছে, এবং আমরা তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করি।