করোনা ভাইরাস পৃথিবী থেকে এখনো বিদায় নেয়নি। তাই এই সময়ে মাহে রমজানের সমসাময়িক কতিপয় জরুরি মাসআলা জানা দরকার। করোনা ভাইরাসের জন্য ব্লাড টেস্ট করালে রোজা ভঙ্গ হবে না। মাহে রমজানে দিনের বেলায় করোনা ভাইরাসের টিকা শরীরে গ্রহণ করা যাবে, এতে রোজা সামান্য দুর্বল হবে, কিন্তু তাতে রোজা ভঙ্গ হবে না।
ভুলক্রমে পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। রোজাদারের কণ্ঠনালিতে যদি ধুলাবালু ঢুকে পড়ে অথবা কুলি করতে গিয়ে বা নাকে পানি দিতে গিয়ে যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি গিলে ফেলে অথবা কোনো কারণবশত বীর্যপাত হয়ে গেলে অথবা স্বপ্নদোষ হলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে রক্ত বের হলে অথবা বমি হলে রোজা নষ্ট হবে না। রাত আছে মনে করে এই ধারণায় যদি কেউ খাবার খেতে থাকে এবং পরে জানতে পারে যে, দিন হয়ে গেছে, তবে এমতাবস্থায় রোজাদার ব্যক্তিকে কাযা আদায় করতে হবে। কিন্তু ফজর হয়েছে কি না—এই সন্দেহ করে খাবার খেলে রোজা নষ্ট হবে না। আর সূর্য অস্ত হয়ে গেছে এই সন্দেহ করে দিনের বেলায় খেয়ে ফেললে তাকে উক্ত রোজার কাযা আদায় করতে হবে।
বিনা কারণে মাহে রমজানের রোজা ভঙ্গ করা হারাম। যে নারীর ঋতু তথা হায়েজ বা নেফাছ হয়েছে, তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। এমনিভাবেই কোনো মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য রোজা ভঙ্গের দরকার হলে রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। সফরের হালতে রোজা রাখা কষ্টকর হলে বা মারাত্মক অসুস্হতার কারণে রোজা রাখতে গিয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলে রোজা ভঙ্গ করা সুন্নত।
দিনের বেলায় সফর শুরু করলে গৃহে থাকা অবস্হায় রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। গর্ভবতী ও সন্তানকে দুগ্ধদায়ী নারী যদি রোজা রাখার কারণে নিজের স্বাস্হে্যর অথবা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, এমতাবস্হায় তার জন্যও রোজা ভঙ্গ করা বৈধ। পরবর্তী সময়ে রোজার কাযা আদায় করে নিতে হবে। কিন্তু গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদায়ি নারী শুধু সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করলে রোজা ভঙ্গ করবেন এবং সেই রোজা কাযা আদায় করার সঙ্গেও প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একজন করে মিছকিনকে খাবার দিতে হবে। অতিবৃদ্ধ এমনকি সুস্হ হওয়ারও কোনো আশা নেই এমন দুরারোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রোজা রাখতে অপারগ হলে রোজা ভঙ্গ করে প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একজন করে মিছকিনকে খাবার প্রদান করা অপরিহার্য ও অত্যাবশ্যক।
লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ