হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঠাঁই নেই

পটুয়াখালীতে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি

পটুয়াখালী জেলায় গ্রীষ্মকালীন ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাবে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৮২ জন। পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ওয়ার্ডে রোগী ঠাঁই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রোগীরা হাসপাতালের কড়িডোরে থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় পটুয়াখালী জেলা এমনিতেই ডায়রিয়াপ্রবণ। এই জেলার পল্লি এলাকার লোক জন খাবার পানি হিসাবে গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করলেও অন্যান্য কাজে অনেকেই ব্যবহার করেন পুকুর, ডোবা, খাল ও নদীর পানি। এ কারণে এখানে পানিবাহিত ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে বেশি।

বর্তমানে জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া ও গলাচিপা উপজেলায়। সিভিলসার্জন অফিসের গতকাল বুধবার সমাপ্ত এক সপ্তাহের রিপোর্ট অনুযায়ী পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৪ জন। এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১০৯ জন। এছাড়া এসময়ে কলাপাড়ায় ৮১ জন, গলাচিপায় ৫৬ জন, বাউফলে ৪০ জন, দশমিনায় ৩০ জন, মির্জাগঞ্জে ২৫ জন ও দুমকি উপজেলায় ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের কড়িডোরে থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এখানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১০টি। সেখানে গতকাল রোগী চিকিৎসাধীন ছিল ২২ জন। হাসপাতালের করিডোরে চিকিৎসাধীন রোগী সদর উপজেলার পশুরিবুনিয়া গ্রামের মো. মাসুম বিশ্বাস জানান, তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না পাওয়ায় কড়িডোরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবদুল মতিন জানান, এই হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ১০টি| সেখানে রোগী বেশি হওয়ায় কাউকে বিনা চিকিৎসায় ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের দায়িত্বে মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবু জাফর ইত্তেফাককে বলেন,পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলায় ৮৬টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আইভি স্যালাইনসহ ওষুধ মজুত রয়েছে।