প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে শান্তির বাস

সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের ছনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম। তার কোনো জমি ও ঘর ছিল না। একসময় অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি আর এ কাজ করেন না। মুজিববর্ষে ছনপাড়া এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ২ শতাংশ জমি ও ঘর পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পেই পিঠা বিক্রি করেন। মরিয়ম বেগম জানান, তার সঙ্গে তার মা থাকেন। তিনি আর ঝিয়ের কাজ করেন না। এখন তিনি স্বাবলম্বী।

একসময় তিনি ২ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। প্রতি মাসেই তার ২ হাজার টাকা এখন সাশ্রয় হচ্ছে। তার ঘরের পাশে তিনি আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন সবজির গাছ রোপণ করেছেন।

ছনপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, তার পরিবারের সদস্য চার জন। আগে তিনি তেমন কাজ করতে পারতেন না, এখন তিনি ঘর পাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী মেঘনা নদীতে মাছ ধরে সংসার নির্বাহ করেন। তিনিও ঘর ভাড়া করে বসবাস করতেন। ঐ সময় তিনি অভাব-অনটনে থাকতেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী। তিনিও তার ঘরের পাশে বিভিন্ন সবজির বাগান ও ফলদ গাছ রোপণ করেছেন।

ষাটোর্ধ্ব ফাতেমা বেগম। তিনি উপজেলার উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় উপজেলা পরিষদের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাসভবনে ঝিয়ের কাজ করেন। তার বাড়ি ছিল পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসের চর গ্রামে। মেঘনা নদীর ভাঙনে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছনপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর ও জমি পেয়ে তিনি একমাত্র নাতিকে নিয়ে সেখানে বসবাস করেন। ঘর পাওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশ্রুসজল চোখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হামছাদী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গৃহবধূ আমেনা বেগম জানান, স্বামী গাড়িচালক। শাশুড়ির নামে এই ঘর ও জমি বরাদ্দ পেয়েছেন। এখন নিজের জমি ও ঘর আছে, এটাই তার আনন্দ।

শাহনাজ বেগমের স্বামী গাড়িচালক। তিনিও জমি ও ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। এখন আর তাদের অভাব নেই। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১০০ জন গৃহহীন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭০ জন। তৃতীয় পর্যায়ে এখনো ৩৫টি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। এ ৩৫টি ঘর শিগ্গিরই গৃহ ও ভূমিহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের খামারগাঁও, সনমান্দি ইউনিয়নের ইমানেরকান্দি, ভাটির চর ও পিরোজপুর ইউনিয়নের নিউটাউন এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া কাঁচপুর, সনমান্দি, সাদিপুর, সোনারগাঁও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় জমিতে গৃহহীনরা ঘর পেয়েছেন। সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ এলাহী জানান, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার গৃহহীন ও ভূমিহীন দুই শতাধিক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কিছু ঘর নির্মাণাধীন। নির্মাণকাজ শেষ হলে তালিকাভুক্তদের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।