খোশ আমদেদ মাহে রমজান

মহান আল্লাহর ফরজ বিধানসমূহ যখন উপস্থিত হয়, তখন সেগুলো পালন করতে হয়। শারীরিক ওজর থাকলে পরে কাজা আদায় করে নিতে হয়। রমজান মাসে যদি কোনো রোজাদার করোনা ভাইরাস বা অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে যান, তাহলে তাহার বিধান হলো, ফাইদ্দাতুম মিন আইয়ামিন উখার। অর্থাৎ, অসুস্থ রোগী বা মুছাফির ব্যক্তি অন্য সময়ে তার কাজা আদায় করে নেবেন। যেমন—করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে যে কয়টা রোজা রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো সুস্থ হয়ে উঠলে পরবর্তী সময়ে কাজা রোজাসমূহের রোজা রাখা ওয়াজিব।

ফাআলাইহিল কাযা, অর্থাৎ তার ওপর কাজা ওয়াজিব। কিন্তু তা না বলে ফাইদ্দাতুম মিন আইয়ামিন উখার বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রোগী ব্যক্তি ও মুছাফিরের অপরিহার্য রোজার মধ্যে শুধু সে পরিমাণ রোজার কাজা করা ওয়াজিব, অর্থাৎ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর এবং মুছাফির বাড়ি ফেরার পর যে কয়েক দিনের সুযোগ পাবে, তার রোজা রাখতে হবে। কিন্তু সে ব্যক্তি যদি এতটুকু সময় না পায় এবং এর আগেই মৃত্যুবরণ করে, তবে তার ওপরে কাজা কিংবা ফিদইয়ার জন্য অসিয়ত করা জরুরি নয়। 

আইয়ামিন মাদুদা—এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, কতিপয় দিবস হলো মাহে রমজানের দিনগুলো। মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন স্বীয় ওহি এবং সব আসমানি কিতাব নাজিল করার জন্য পবিত্র রমজান মাসকে নির্বাচিত করেন। আল-কোরআনও পবিত্র রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়। মুসনাদে আহমদে হজরত ওয়াছিলা ইবনে আছকা থেকে বর্ণিত যে, রসুলেপাক (স.) বলেছেন, আল্লাহপাক প্রথম রমজানে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ওপর সহিফা নাজিল করেন। আর রমজানের ষষ্ঠ দিনে হজরত মুছা (আ.)-এর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল করেন এবং ১৩তম রমজানের দিনে হজরত ইসা (আ.)-এর ওপর ইনজিল কিতাব নাজিল করেন। এবং বারো রমজানে হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর যাবুর কিতাব নাজিল করেন।

আর পবিত্র আল কোরআন নাজিল করেন পবিত্র শবে কদরের রাতে। ফাইদ্দাতুম মিন আইয়ামিন উখার, অর্থাৎ যেহেতু এমন কোনো শর্তের উল্লেখ নেই, যা দ্বারা বোঝা যেতে পারে যে, কাজা রোজাগুলো একসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পালন করতে হবে। মাঝে মাঝে বিরতি দিয়েও কাজা রোজগুলো পরবর্তী সময়ে পালন করলেই চলবে।

লেখক: অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল-মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ।