সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মৌসুমি ফসল উৎপাদনে পাট চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চৈত্র-বৈশাখ মাসে পাট বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। কৃষক জমি তৈরি করে বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন পার করছে।
সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াতে বিকল্প পথে পানি সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ করছেন তারা। বিগত বছরগুলোতে পাটের ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম ভালো পাওয়াতে কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
তালা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চাষের প্রথমে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছে কৃষকরা।
তালা উপজেলার জুজখোলা গ্রামের কৃষক আব্দুস সবুর জানান, তিনি বৃষ্টির অপেক্ষা না করে সেচের মাধ্যমে ৪ বিঘা জমিতে পাটবীজ বপন করেছেন। বিঘা প্রতি প্রায় এক হাজার টাকা সেচের জন্য ব্যয় করেছেন। ইতোমধ্যে তার পাটের চারা গজিয়েছে। তিনি আগাম পাট কেটে জমিতে ধান চাষ করবেন বলে জানান।
আরেক কৃষক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আগাম পাট চাষ না করলে পাটের ফলন ভালো হয় না তাইতো সেচে খরচ হলেও পাটের ফলনে সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। পাটের ফলন ভলো হলে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া যাবে। আর সঠিক দাম পেলে প্রতি বিঘায় শুধু পাট বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তার সঙ্গে পাটখড়ির দাম যুক্ত করলে প্রতি বিঘায় এবার কৃষকের লাভ হবে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা।
তালা উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পাটের উৎপাদন বেশি হবে আশা করা যায়। এবার চাষের প্রথমে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বাজারে কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।