মিরসরাইয়ে প্লাস্টিকের টুকরিতে ভাগ্য খুলেছে শত শত নারীর

পাহাড় থেকে আনা বাঁশ দিয়ে আগে লাই, খাচি, টুকরিসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করতেন বিবি ফাতেমা, জেসমিন আক্তার মনি, আমেনা আক্তারসহ গ্রামীণ নারীরা। পাহাড়ে বাঁশের জোগান কমে যাওয়া ও অল্পদামে প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য পাওয়ায় গ্রাহকের অভিরুচিও পরিবর্তন হয়েছে। দামে কম, মানে ভালো এসব পণ্য বিক্রি করে ভাগ্য খুলেছে হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক নারীর।

জানা গেছে, উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেদীনগর, উত্তর মেহেদীনগর ও স্টেশান গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। প্রথমে কয়েকটি পরিবার ক্ষুদ্র আকারে প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরির কাজ শুরু করলেও এখন তা হিঙ্গুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জেসমিন আক্তার মনি বলেন, তিনি বিগত তিন বছর ধরে পাইকার থেকে প্লাস্টিকের বেত নিয়ে তা দিয়ে বিভিন্ন সাইজের টুকরি বানিয়ে মজুরি নেন। প্রতিদিন ১৫-২০টি বড় টুকরি তৈরি করেন। দৈনিক মজুরি পান গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। সানজিদা আক্তার উর্মি বলেন, ‘প্লাস্টিকের বেত দিয়ে আমরা বিভিন্ন টুকরি বানানোর কাজ শুরু করি। স্থানীয় পাইকার মো. জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে প্লাস্টিকের বেত নিয়ে মা আর দুই বোন মিলে প্রতিদিন ২০টি টুকরি তৈরি করি। যার মজুরি হিসেবে দৈনিক ৬০০ টাকা পাই।’

উদ্যোক্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, মেহেদীনগর গ্রাম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার টুকরি দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। মেহেদীনগর গ্রামের নারীরা আগে পাটি বেত ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প বানাতেন। কালের বিবর্তনে পাটি বেত আর বাঁশের তৈরি পণ্যের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিকের বেতের তৈরি পণ্য। ঢাকার গাজীপুর, গাউছিয়া, কাঁচপুর এলাকার বিশ্বরোড, চট্টগ্রামের ফুড কলোনি, লেবার কলোনিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারিতে প্লাস্টিকের বেত প্রতি কেজি ৩০-৫০ টাকায় কিনে নিয়ে আসেন। ব্যাংক থেকে বড় আকারের ঋণ নিতে পারলে বেশি পরিমাণে প্লাস্টিকের বেত কিনে ব্যবসার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব বলে জানান তিনি। ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম রানা বলেন, দক্ষিণ মেহেদীনগর, উত্তর মেহেদীনগর, স্টেশন রোডে তার অধীনে দেড় শতাধিক নারী প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরির কাজ করেন। যারা প্রতিটি টুকরি তৈরিতে গড়ে ১৭ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মেহের আফরোজ বলেন, ‘আমাদের মা-বোনেরা সংগ্রামী জীবন যাপন করেন। প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরি করে তারা যেভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, সেটি সত্যি প্রশংসনীয়। আমি মেহেদীনগর গ্রাম পরিদর্শন করব এবং সহজ শর্তে তাদের সরকারি ঋণ ও ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দিতে সহায়তা করব।’ হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া বলেন, ইউনিয়নের ৫ শতাধিক নারী প্লাস্টিকের বেত দিয়ে টুকরি তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘ সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। আমি মেহেদীনগর গ্রামের নারীদের টুকরি তৈরির বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করব’।