গুরুদাসপুরের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে

শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই গুরুদাসপুরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মির্জা-মামুদ, খলিসাডাঙ্গা ও নন্দকুঁজা নদনদী শুকিয়ে যাচ্ছে। জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ চর। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। দখল-দূষণ আর ভরাটের কবলে পড়া এসব নদনদী রক্ষার দাবি জানিয়েছে চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি। নদনদী রক্ষায় পৃথক বরাদ্দেরও দাবি করেছে কমিটি। সম্প্রতি চাঁচকৈড় বাজারের নন্দকুঁজা নদীর তীরে নদী রক্ষায় সভা করেছে চলনবিল ও নদ-নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌর শহরসহ দুটি ইউনিয়নের বুক চিরে নন্দকুঁজা নদীর প্রবাহ। চাঁচকৈড়ের ত্রীমোহনা থেকে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিমের নাজিরপুর, চাপিলা ইউনিয়ন ও বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর হয়ে নাটোরের নারোদ নদে মিশেছে নন্দকুঁজা। স্থানীয়রা বলছেন, একসময়কার প্রবহমান খরস্রোতা ছিল নন্দকুঁজা। এ নদীকে ঘিরেই গুরুদাসপুরে গড়ে উঠেছিল চাঁচকৈড় হাট। উত্তর জনপদের আটটি জেলার মানুষ নৌকায় করে এই হাটে বাণিজ্য করতেন। এখন নদীটি মরা খালে পরিণত হলেও রক্ষার উদ্যোগ নেই।

চলনবিল ও নদনদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজনু জানান, নন্দকুঁজা ছাড়াও তুলসীগঙ্গা, মির্জা-মামুদ ও খলিসাডাঙ্গা নদনদী দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। তিনি বলেন, নন্দকুঁজা নদীর চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া থেকে উৎপত্তি হয়ে চলনালী-কান্দিপাড়া, কান্টাগাড়ী বিল হয়ে পাটপাড়া, সোনাবাজু, চাকলের বিল এবং পশ্চিমের চাপিলা হয়ে আবারও নন্দকুঁজায় মিলিত হয়েছে মির্জা-মামুদ নদ। এই নদের সংযোগ নালা বয়ে গেছে দক্ষিণের সিধুলী হয়ে চরকাদহ, ধারাবারিষা, চামটা বিলে। অথচ এই নদের উৎসমুখ চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া থেকে দখল শুরু হয়ে নওপাড়া পর্যন্ত সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া নওপাড়া থেকে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদের স্মৃতিচিহ্নই মুছে গেছে।

পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান জানান, নন্দকুঁজা, তুলসীগঙ্গা, মির্জা-মামুদ ও খলিসাডাঙ্গা নদনদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব নদনদী রক্ষায় চলনবিল জুড়ে বৃহৎ আন্দোলনের উদ্যোগ নেবেন তারা।

এ বিষয়ে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকলেসুর রহমান বলেন, নদনদী থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলমান আছে। তাছাড়া বড়াল, নারদ, নন্দকুঁজা ও মুসাখা নদনদী খননের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।