‘গত বারের থিকা ধান এবার ভাল ওইছিল। দেইহা ভাবছিলাম ম্যালা ধান পামু। পরিবারের বেহেকে হাতে নিয়া ভাল কইড়া সংসার চালামু। কিন্তু আমরা শ্যাষ। যমুনায় পানি বাইড়া চরের ব্যাবাক ধান ডুইব্যা গ্যাছে। এহন কি খামু। আর কিবা কইড়া চলমু হেডা আল্লাহই জানে।’
কথা গুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের জামাল মীরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন (৫০)।
নাসিমা খাতুন জানান, ৭/৮ বিঘা জমিতে ধান বুনেছিলাম। বিঘেতে ১৪/১৫ মন ধান পাবার কথা ছিল। হঠাৎ যমুনার পানি বৃদ্ধির পাওয়ায় ৭ বিঘা জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। ১ বিঘা জমির ধান কোনো রকম তুলে এনায়েতপুর ঘাটে এনেছি। এখন আগামী দিন কিভাবে চলবে সেই চিন্তাই আছি।
এনায়েতপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফরিদ আলী ও আক্তার হোসেন জানান, প্রতিবছরই পানি আসে। তবে এবারের মতো এতো ক্ষতি হয়নি। আমাদের শুধু এনায়েতপুর চরের অন্তত ৩০০ বিঘা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩০/৪০ বিঘা জমির ধান কোন রকম তুলতে পেরেছি। এখন সংসার চলবে কিভাবে ভেবে পাচ্ছি না।
আড়াই মাস আগে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর, স্থল, ঘোরজান, খাস কাউলিয়া, খাস পুখুরিয়া, বাঘুটিয়া, উমারপুর ইউনিয়নের যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলের কৃষকেরা বোরো ধান রোপণ করেছিলেন। ১০/১৫ দিন পরেই এই ধান গোলায় উঠতো। কিন্তু যমুনার পানিতে তলিয়ে গেছে এসব জমির ফসল।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এ জে এম আহসান শাহেদ সরকার জানান, চৌহালী ও শাহজাদপুরের যমুনার তীরবর্তী নিচু জমির বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।