মিথ্যার আশ্রয়ে ভাইরাল তারা

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম-‘পুলিশ কনস্টেবল থেকে বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার গল্প ও শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে উচ্চ শিক্ষিত সোহেলের সংসার’ । শুরুতে এ সব ঘটনায় মানুষ সাধুবাদ জানালেও পরে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনী। আদতে দেখা যায়- ভাইরাল হওয়ার জন্যই তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। 

গত ৩০ মার্চ ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশকৃত হওয়ার দাবি করেন কনস্টেবল আবদুল হাকিম। কনস্টেবল থেকে পুলিশ ক্যাডারে তার সুপারিশপ্রাপ্তির খবর সারাদেশে আলোড়ন তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্য ধন্য রব পড়ে যায়। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে মেলে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদতে বিসিএসে উত্তীর্ণ তো দূরের কথা, পরীক্ষাই দেননি আবদুল হাকিম।

কনস্টেবল আবদুল হাকিম দাবি করেছিলেন, ৪০তম বিসিএসে তিনি পুলিশ ক্যাডারে ৬৭তম স্থান অর্জন করেছেন। অথচ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) তালিকায় সেই স্থান লাভ করেছেন সঞ্জীব দেব নামে এক পরীক্ষার্থী।

কনস্টেবল আবদুল হাকিম।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা  আবদুল হাকিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০১০ সালে সায়দাবাদ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছি। এরপর রায়পুরা কলেজ থেকে ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করি। ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তি হই নরসিংদী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। এর কিছুদিন পর পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়। ২০১৩ সালে পুলিশে যোগদান করার পর প্রথমে গাজীপুরে শিল্প পুলিশে পোস্টিং হয়। ২০১৫ সালে বদলি হয়ে ঢাকা মহানগরীর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগে। সেখানে থাকা অবস্থায়ই নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে অনার্স শেষ করি।  ২০১৮ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে আবেদন করি। প্রিলিমিনারিতে কৃতকার্য হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিই। চলতি বছরের ৩০ মার্চ ৪০তম বিসিএসের ফলে পুলিশ ক্যাডারের মেধাতালিকায় ৬৭তম হিসেবে জায়গা করে নিই।’

তবে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক পাস করার কথা বললেও ওই বছরের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণদের তালিকায় আবদুল হাকিমের নাম নেই। এমনকি ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থীদের তালিকায়ও তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সোহেল-রওশন।

এদিকে গণমাধ্যম ও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সোহেল-রওশনের নজিরবিহীন ভালবাসার গল্পটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৪ বছর আগে ভালোবেসে ময়মনসিংহের ত্রিশালের প্রতিবন্ধী রওশন আক্তারের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন এই সোহেল। স্বামীর সাহায্য নিয়েই সব কাজ করতে হয় রওশনের। এমনকি সোহেল মিয়ার পিঠে চড়েই যাতায়াত করেন বিভিন্ন জায়গায়। তাদের এমন ভালোবাসার গল্প নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বেরিয়ে এসেছে সোহেলের অতীত ঘটনা৷ তার আসল নাম মোখলেছুর রহমান (বকুল)। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আগের সংসারে স্ত্রী ছাড়াও তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে এসব তথ্য গোপন করেছিলেন সোহেল মিয়া। শুধু তাই নয়, সোহেল বলেছিলেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। তার  শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও মিথ্যা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে সোহেল মিয়া বলেন, ‘প্রেমের সময় রওশনকে বলেছিলাম আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। এটা মিথ্যা কথা। শিক্ষাগত যোগ্যতার মিথ্যা কথা বলাটা আমার ভুল হয়েছে। এজন্য সবার কাছে আমি ক্ষমা চাই।’