বাংলাদেশে যে কোনো ইস্যু ভাইরাল হলে সেটা নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আমরা এসব কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু দুঃখ এবং আফসোস হয় তখন, যখন আমরা সেসব সমস্যা সমাধানে আওয়াজ তুলি না, যেসব সমস্যা রোজ আমাদের পীড়া দেয়। এই যে ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটা নিয়ে কি কারো কোনো মাথা ব্যথা আছে? অথচ দেশের মানুষের ওপর প্রতি বছরই এমন অন্যায় করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর রমজান শুরুর আগেই অভিনব কারসাজি নিয়ে কতিপয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজারে নামে। মাস পনেরো দিন আগে থেকেই অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করে।
বাজারে অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে মুদির দোকানে দাম বেড়েছে প্রায় প্রতিটি পণ্যের। অস্ট্রেলিয়ান উন্নতমানের ছোলা কেজি প্রতি ১১৫ টাকায়, চিনি ৮০ টাকায়, মসুর ডাল (ছোট জাত) ১৪৫ টাকা ও বড় জাতের মসুর ডাল ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মটর ডাল ৪৫ টাকা ও খেসারি ডালের দাম ১৩৫ টাকা। খোলা সয়াবিনের কেজি ১৫০ টাকা ও পলিব্যাগ কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৮ টাকায়। আদা ৯৫ টাকা, আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, চিনির দাম মণপ্রতি বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, কেজিতে ৬৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুর আরিচা ৪০০, বড়ই ৩৪০, জিয়াদা ২৪০ এবং সর্বনিম্ন ইরাকি খেজুর ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই দশা চালের বাজারে। মিনিকেট চাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট কেজিপ্রতি ৬০, মিনিকেট আতব ৬০, মালা ৫৫, জিরা সিদ্ধ ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে।
একটি জাতীয় পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোজার মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে ১১টি কারণ খুঁজে পেয়েছে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। কারণগুলো হচ্ছে— প্রথাগত সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুতের মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, রমজানে পণ্যের বাড়তি চাহিদা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, যানজট ও অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি, স্বার্থান্বেষীমহলের অপতত্পরতা, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচ্চসুদের হার, ঋণপ্রাপ্তিতে জটিলতা এবং ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়া।
প্রতিবছর রমজানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এভাবে আর কত? এই অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। ভোগ্যপণ্যের দাম কমিয়ে আনার জন্য যদি রাস্তায় নামতে হয়, তবে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নামবে। এটা কোনো দলের জন্য নয়, এটা দেশের মানুষের জন্য। তাই নড়বড়ে ইস্যু নিয়ে রাজপথ গরম না করে ভোগ্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়া উচিত। সরকারের কাছে অনুরোধ দয়া করে রমজান মাসে বাজারের এই অস্থিরতা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। দেশের মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ। সরকার এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনবে সেই প্রত্যাশা রাখছি।
লেখক: শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়