কিংবদন্তি অভিনেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার। রবিবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে হঠাৎ সামাজিকমাধ্যমে নায়ক ফারুকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত তার পরিবার।
সিঙ্গাপুরে ফারুকের সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ফারুক ভালো আছেন।’
ফারহানা পাঠান বলেন, আমরা জানি ফারুককে নিয়ে আপনারও উৎকণ্ঠায় আছেন। তার সুস্থতা চান আপনারাও। তারপরও বলব, হুটহাট এমন খবর ছড়িয়ে আমাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করবেন না। আমরা কয়েক বছর ধরে একটা অস্বাভাবিক জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে দোয়া চাই। যেনো আপনাদের মিয়া ভাইকে নিয়ে দ্রুত দেশে ফিরতে পারি।
এর আগেও বেশ কয়েকবার ফারুকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। বরেণ্য এ অভিনেতার মৃত্যুর গুজবে চরম বিরক্ত তার পরিবার, স্বজনরা ও চলচ্চিত্রের মানুষেরা।
২০২১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে যান ফারুক। এরপর থেকেই অসুস্থতা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এরপর থেকে হাসপাতালটিতে ভর্তি রয়েছেন তিনি।
১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ এ দুটি সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৭৫ সালে তার অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। ওই বছর ‘লাঠিয়াল’র জন্য তিনি সেরা-পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ ও ‘নয়নমণি’, ১৯৭৮ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’সহ বেশকিছু সিনেমায় ‘মিয়া ভাই’খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের অভিনয় প্রশংসিত হয়।