নাটক কিংবা চলচ্চিত্র, প্রতিটি মাধ্যমেই চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে সিদ্ধহস্ত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। প্রতিটি কাজেই তার অভিনয়ে মুগ্ধ হন দর্শকরা। একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতা নিজের নতুন কাজ, অভিনয় ভাবনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
ঈদ কেন্দ্রিক ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই
— বরাবরের মতো এবারের ঈদেও বেশকিছু নাটকে অভিনয় করছি। এরইমধ্যে কয়েকটি একক নাটকের কাজ শেষ করেছি। আরও একাধিক নাটকের কাজ হাতে রয়েছে।
প্রতিটি নাটক-চলচ্চিত্রেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে বাবুর দেখা মেলে। এবারের ঈদের নাটকে বিশেষ কী চমক থাকছে?
হ্যাঁ, এবারও সেই ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি নাটকের চরিত্রেই ভিন্নতা থাকছে। তবে কোন চরিত্রটি বিশেষ সেটা দর্শকরা নাটকগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন।
আসছে ঈদে আপনার একটি সিনেমা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। সিনেমাটি প্রসঙ্গে জানতে চাই
— এবারের ঈদে আমার অভিনীত ‘পাপ-পুণ্য’ সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটি দেশের পাশাপাশি বিদেশের ২শ’ সিনেমাহলে মুক্তির কথা চলছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। তাছাড়া সিনেমাটির গল্পেও ভিন্নতা রয়েছে। আমার বিশ্বাস সিনেমাটি দারুণ প্রশংসিত হবে।
ঈদে নাটক নির্মাণ যেমন বাড়ে তেমনি মানহীন নিয়েও কথা হয়। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
আগে নাটক হতো ১শ’, এখন হয় ১ হাজার। এত বেশি নাটক হলে তো সবগুলোর মান এক হবে না। আবার সব নাটক তো খারাপ হচ্ছে না। কিছু নাটক কিন্তু খুবই ভালো হচ্ছে। আমাদের খারাপ নাটক যেমন বাড়ছে তেমনি ভালো নাটকের সংখ্যাও বাড়ছে। সেই জায়গা থেকে বলবো, আমাদের হাতে যেহেতু অপশন আছে সেহেতু আমরা খারাপ নাটকগুলো না দেখলে আরও ভালো নাটক তৈরি হবে।
গল্পনির্ভর কাজের প্রবণতা বাড়ায় চরিত্রাভিনেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ কমছে কি-না?
ওটিটি আসায় অনেকেই এখন শুধু ওটিটির কাজ করছে এবং ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। আমিও বেশ কয়েকটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেছি। ক’দিন আগে ‘খাঁচা ভেতর অচিন পাখি’তে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেলাম। এই সিনেমাতে কিন্তু চরিত্রাভিনেতারাই কাজ করেছি। শুধু ওটিটি না, নাটক-সিনেমাতেও আমাদের কাজের পরিধি বাড়ছে।
কিন্তু ওটিটির কিছু কাজ প্রশংসিত হলেও মাতামাতি একটু বেশিই চোখে পড়ে। এই চর্চা নাটকের ওপর প্রভাব ফেলবে মনে করছেন না?
এটাকে মাতামাতি ঠিক বলা যাবে না। এটা এক ধরনের প্রচারণা। যেহেতু এই কাজগুলো টাকা দিয়ে দেখতে হয় সেহেতু একটু লেখালেখি, আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু টেলিভিশন নাটক তো টাকা দিয়ে দেখতে হয় না। যার ইচ্ছে হলো দেখলো, ইচ্ছে হলো না দেখলো না।
কয়েক দশক অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছেন। সব মিলিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অবস্হা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমি তো এখন অনেক ভালো অবস্হা দেখতে পাচ্ছি। ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রির সুদিন ফিরছে|।এখানে একটি কথাই বলবো, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি বড় হচ্ছে, কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে, কিন্তু আমরা আমাদের যেন ভুলে না যাই। আমাদের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, চেতনা যেন ভুলে না যাই।
অনেকেই বলছেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা বাড়ছে। আপনি বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?
আমিও আপনার কথার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। দেখুন, ছোটবেলায় আমরা সন্ধ্যা হলেই পালাগান, যাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিগান বা পাড়ায় পাড়ায় থিয়েটার দেখতে পেতাম। একটা সাংস্কৃতিক আবহ ছিল। সেই বিষয়গুলো কিন্তু এখন নেই। একজন মানুষ যদি সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয় তাহলে সে কখনও সহিংস হবে না, জঙ্গি হবে না।