টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে শাল-গজারির বন। নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন ভাঙনের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল আজগানা, লতিফপুর এবং তরফপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় বনাঞ্চলের শাল-গজারি বন এ ভাঙনের কবলে পড়েছে। আজগানা ইউনিয়নের হাটুভাঙ্গা ও পলাশতরী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চল।
উপজেলা বন বিভাগ সূত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সরকারি বনভূমি রয়েছে। বিশাল এই বনভূমিতে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমনি, পিকরাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে। এছাড়া সমাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বনাঞ্চল ও এর আশপাশে প্রচুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বংশাই নদীর ভাঙনে আজগানা ইউনিয়নের পলাশতলী, হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর এবং লতিফপুর ও তরফপুর ইউনিয়নের শাল-গজারির বন বিলীন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলার উপ-পরিচালক মো. জমির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। বন বিভাগ মির্জাপুর রেঞ্জ অফিসের অধীনে হাটুভাঙ্গা বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা মি. রতন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলে বংশাই নদীর ভাঙনে শাল-গজারি বনের ক্ষতি হচ্ছে। নদীভাঙন থেকে বনাঞ্চল রক্ষার জন্য বিষয়টি বন বিভাগের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধ বা গাইড বাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বনাঞ্চল রক্ষায় বিষয়টির দিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীর আশপাশ ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে স্হানীয় এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।