শামীম হামিদ, ওভাল (লন্ডন) থেকে
সকালে ম্যানর পার্ক স্টেশনে গিয়ে একটা বড় ধাক্কা খেতে হলো—ট্রেন বন্ধ।
সংস্কার কাজের জন্য রবিবার গোটা দিন এই স্টেশনে কোনো ট্রেন থামবে না। স্টেশনের নিরাপত্তা রক্ষীর কাছে এ তথ্য জানার পর মাথায় হাত উঠলো। এখন ওভালে যাওয়ার উপায় কী?
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। ১০টার মধ্যে প্রেস বক্সে প্রবেশ করতে হবে। ট্রেন ছাড়া আরো একাধিক উপায় আছে ওভালে যাওয়ার। কিন্তু সেসব রাস্তা চেনা নেই।
এসব সাতপাঁচ ভেবে যখন দিশেহারা, তখনই হঠাত্ রাস্তায় বেশ হাসিখুশি একদল নারীপুরুষের দেখা মিললো—গায়ে সবুজ জার্সি, হাতে লাল-সবুজ পতাকা। তার মানে, বাংলাদেশ। একদল বাংলাদেশি আসছেন। কাছাকাছি আসতে নিজের পরিচয় দিয়ে ওভালে যাওয়ার রাস্তা জানতে চাইলাম। শুনে সবাই একসঙ্গে হেসে ফেললেন। বললেন, ‘ভাই নো টেনশন। আমরাও যাচ্ছি ওভালে। চলেন আমাদের সঙ্গে। জাস্ট ফলো দি বাংলাদেশ জার্সি।’
হ্যাঁ, দিনটাই এমন ছিল যে বাংলাদেশি জার্সি অনুসরণ করলেই ওভাল পৌঁছে যাওয়া যাচ্ছিল। বাংলাদেশের সমর্থকদের কল্যাণে কোনো ঝক্কি ছাড়াই অবশেষে ঠিক সময়ে ওভালে পৌঁছানো গেল।
ম্যানর পার্ক থেকে আসার সময় ট্রেনে কথা হয় বাংলাদেশি তিন যুবক নিঝুম, অপু ও বাপ্পীর সঙ্গে। নিঝুমের সঙ্গে তার ৮ বছরের ছেলে ইথানও রয়েছে। নিঝুম জানালেন, তিনি বাংলাদেশের নয়টি ম্যাচেরই টিকিট সংগ্রহ করেছেন। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পুরো ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা তার। হোটেল বুকিং দিয়ে ফেলেছেন অনলাইনে। খেলার আগের দিন ওই শহরে চলে যাবেন। অপুর কাছে ৭টি ম্যাচের টিকিট আছে। তবে বাকি দুটির টিকিটও পেয়ে যাবেন বলে জানালেন। বাপ্পী জানালেন, ‘এবারের ঈদে আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার বাংলাদেশের খেলা। এর চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতেই পেতাম না।’
ট্রেনে দেখা মিললো শৈবাল নামে এক যুবকের। বিশ্বকাপ দেখার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে সুদূর নিউইয়র্ক থেকে তারা এসেছেন। শৈবাল জানালেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দুটি তারা দেখবেন। শৈবালের স্ত্রী রসিকতা করে বললেন, ‘যদি বাংলাদেশ এর মধ্যে একটা ম্যাচও জেতে তাহলে আমাদের আসা যাওয়ার পয়সা উশুল।’
সড়ক পার হয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে মনে হলো বাংলাদেশি কোনো স্টেডিয়ামে এসে পড়েছি। গতকাল ওভাল ছিল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। গ্যালারিতে লাল-সবুজ পতাকা আর জার্সির ছড়াছড়ি। সবুজ জার্সির আড়ালে ঢাকা পড়েছে বাকি সবকিছু। শুধু গ্যালারি নয়, ওভালগামী সব সড়কেই লাল-সবুজের ছড়াছড়ি। বাস, ট্রেন, ট্যাক্সি, প্রাইভেট কারসহ নানা পরিবহনে সবুজের আঁকিবুকি। লন্ডন ছাড়াও ইংল্যান্ডের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ক্রিকেট ভক্ত হাজার হাজার বাঙালি। ওভালের আশপাশে বাংলাদেশি পতাকা ও জার্সি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পুতুলও বিক্রি হচ্ছিল প্রচুর। স্টেডিয়ামে প্রেস বক্সের নিচের তলায় রয়েছে বিশ্বকাপের সুভেনির শপ। সেখানেও অনেক আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশি জার্সি কিনেছেন অনেকে।