‘গিয়াস উদ্দিন সেলিমের লেখা প্রথম নাটক ‘পৌনঃপুনিক’ এবং তার নির্দেশনায় প্রথম নাটক ‘হাউজওয়াইফ’-এ আমি অভিনয় করেছিলাম। তার সাথে আমার দীর্ঘ পথ চলার গল্প। সে চমত্কার একজন গল্প কথক। তার নির্দেশনায় কাজ করতে গিয়ে তার ওপর নির্ভর করি। আমি যখন অভিনয় থেকে দূরে সরে যাই তখন যারা অভিনয়ে এসেছেন তাদের সাথে কাজের সুযোগ হয়নি। এ ছবির মাধ্যমে তাদের সাথে কাজের সুযোগ হলো। চাঁদপুরে টানা কাজ করা সম্ভব হয়েছে দুর্দান্ত টিম ওয়ার্কের জন্য’— গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘পাপ পুণ্য’ ছবিতে কাজের কথা বলতে গিয়ে এক দমে বলে গেলেন নন্দিত তারকা অভিনেত্রী আফসানা মিমি।
একসাথে কাজ করতে গিয়ে চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, ফারজানা চুমকি ও শাহনাজ সুমিকে আরও জানার সুযোগ হয়েছে তার। এজন্য বেশ আনন্দিত মিমি। তিনি বলেন, ‘পুরো অভিজ্ঞতাটাই আমার জন্য ভীষণ আনন্দের। শহর থেকে দূরে গিয়ে শুটিং করেছি। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারেও শুটিং করেছি। ঐতিহাসিক এ জায়গায় শুটিং ছিল রোমাঞ্চকর।’
এ ছবির পর মিমি অভিনয় করেন নূর ইমরান মিঠুর ‘পাতালঘর’ ছবিতে। এ ছবিটিও আছে মুক্তির অপেক্ষায়। দুটি ছবিরই প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন। মিমি ভেবেছিলেন ‘পাপ পুণ্য’ মুক্তির পর তার অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘নিখোঁজ’ প্রকাশ পাবে। কিন্তু তার আগেই রিহান রহমানের ছয় পর্বের এ ওয়েব সিরিজ প্রকাশ্যে এসেছে। ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মিমি বলেন, ‘নিখোঁজ’ আমার জন্য চমত্কার অভিজ্ঞতা। একজন অভিনয়শিল্পীর জন্য অভিনয় তখনই আনন্দদায়ক হয় যখন তিনি একটি ঠিকঠাক গল্প, চরিত্র ও পরিচালক পান। একজন নির্মাতা যখন স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে কাজ করেন তখন অভিনেতার জন্য পুরো জার্নি আনন্দের হয়। সবসময় জানতাম আমি চমত্কার একটি গল্পের অংশ।’
মাঝে নির্মাণে ঝুঁকলেও এখন ফের অভিনয়ে আনন্দ পাচ্ছেন আফসানা মিমি। টেলিভিশন, সিনেমা ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। এদের মাঝে প্রযুক্তিগত বাদে আর কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে করেন তিনি। মিমি বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে গল্প, অভিনয় ও নির্মাণের প্রতি যত্নশীল হতে হয়। তবে বর্তমানে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে দর্শক ধরে রাখার প্রচেষ্টা কম। একটা সময় বিটিভির অনুষ্ঠান দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম। যারা ছিলেন তারা ভেবে অনুষ্ঠান নির্মাণ করতেন। এখন ২৪ ঘণ্টার চাঙ্ক পূর্ণ করাটাই যেন উদ্দেশ্য। বিশ্বমানে যাওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট ভাবনায় কাজ করে অল্পতেই খুশি হয়ে যাই। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো নিজেদের সাথে প্রতিযোগিতা করছে, মানোন্নয়নের তাগিদ না থাকলেও যে চলে। কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে মান দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে। তাদের প্রতিযোগিতা বিশ্বব্যাপী। সিনেমাও সেলুলয়েড থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে। সিনেমাহলে সিনেমা দেখার আবেদন কখনো শেষ হবে না।’
শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদে কর্মরত আফসানা মিমি আরও বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের কাজে সেট, কস্টিউম বা প্রপসের কোনো আড়ম্বর নেই। ছিল অসাধারণ গল্প, কিছু চরিত্র আর অভিনয়। তাই তার কাজ এখনো দর্শক দেখতে পছন্দ করে। আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি গল্প বলা। মঞ্চ, টেলিভিশন, ওটিটি ও সিনেমায় গল্প যত সুন্দরভাবে বলবেন তত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবেন।’
বর্তমান সময়ের আলোচ্য ‘ভিউ’ বা সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস করেন না আফসানা মিমি।
তিনি মনে করেন, মানসম্পন্ন কাজের ক্ষেত্রে এসব ‘ভিউ’ কোনো গুরুত্ব বহন করে না। কাজই শিল্পীকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে। তিনি বলেন, ‘সংখ্যার চেয়ে গুণ ও কর্মের প্রয়োজনীয়তা বেশি। দশ জন অহেতুক দর্শকের চেয়ে দু’জন বোদ্ধা দর্শক আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যা নয় গুণের চর্চায় মনোযোগী হওয়া দরকার।