শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন

বাংলাদেশে বর্তমানে যে শিক্ষাব্যবস্থা চলমান রয়েছে তা বর্তমান চাহিদা উপযোগী নয়, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবদান রাখতে পারছে না। যদিও ২০১০ সালের প্রণীত শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলা হলেও তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। আমাদের দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৩৮টি, রয়েছে একশর উপরে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো। যেগুলো থেকে প্রতিবছর গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে, প্রশ্ন হলো তারা তাদের শিক্ষার কতটুকু বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে? আমরা দেখতে পাই, এই বিশাল সংখ্যার গ্রাজুয়েটদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক বাস্তবে প্রয়োগ করার মতো জ্ঞান রাখে। শুধু ভারী হচ্ছে আমাদের শিক্ষিত বেকারের পাল্লা। অথচ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪ লক্ষ লোক চাকরি করছে আমাদের দেশে। কেন আমাদের গ্রাজুয়েট এই সেক্টরগুলোতে কাজ করতে পারছে না, এর কারণ আমাদের স্কিল ডেভেলপ করতে না পারা, প্রয়োজনীয় বাস্তব জ্ঞানসম্পূর্ণ শিক্ষা দিতে না পারা এবং ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব। প্রাইমারি লেভেল থেকেই সঠিক সৃজনশীল শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ব্যবহারিক শিক্ষায় মনোযোগী করতে হবে। শিক্ষার মানদণ্ড মাপার একটি মাপকাঠি হচ্ছে গবেষণা, কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা গবেষণার পরিবেশ পান না বললেই চলে, এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে ফান্ড বরাদ্দ করা উচিত। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত বা পরিবর্তনের একটি বড় বিষয় হলো শিক্ষা বাজেট। বাংলাদেশে শিক্ষা বাজেট দেওয়া হয় মূল বাজেটের ১০-১১%, কিন্তু ইউনেস্কোর ঘোষণা অনুযায়ী একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাজেটের ২০% অন্তত শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে এবং জিডিপির ন্যূনতম ৪% কিন্তু আমাদের দেশে দেওয়া হয় ২% বা তার কাছাকাছি, বাজেট স্বল্পতার কারণে যুগোপযোগী শিক্ষা এবং সংস্কার সম্ভব হয়ে উঠে না, অন্য আরেকটি কারণ হতে পারে, ত্রুটিযুক্ত শিক্ষানীতি। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা ব্যবস্থা সেই মান্ধাতা আমলেরই রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত শিক্ষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা এবং বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ায় সেটা ভালোভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তার তদারকি করা। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাদ দিয়ে দক্ষতা বিষয়ক, টেকনিক্যাল এবং বাস্তব জ্ঞানসম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়