ভিসা প্রক্রিয়া শিথিলের পর দুবাইয়ে বাংলাদেশি পর্যটক বেড়েছে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ভিসা প্রক্রিয়া শিথিলীকরণের পর দুবাইয়ে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এয়ার ট্রাভেলের প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত উত্সাহব্যঞ্জক এবং বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। ১ কোটির বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন এবং কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম একটি প্রবৃদ্ধিশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারী, ট্রেডার, বহুজাতিক কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মনোযোগ আকর্ষণ করে আসছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন আহমেদ খুরি। তিনি এমিরেটসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। পশ্চিম এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশিদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় গন্তব্যের তালিকায় সব সময়ই শীর্ষস্থানীয়। দুবাই বর্তমানে ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। শহরটিকে আরো আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় তিনি বাংলাদেশে এমিরেটসের কার্যক্রম ও সেবার বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে মাত্র দুটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট নিয়ে আমরা বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে ঢাকা ছিল অষ্টম গন্তব্য। সেই থেকে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল রেখে আমাদের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা থেকে আমরা দৈনিক তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছি এবং গড় লোড ফ্যাক্টর ৯০ শতাংশেরও বেশি। আমাদের রাজস্ব আয়ে এর প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য এবং ভারত, ব্রাজিল, এঙ্গোলা  ও  ইরানে মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমাদের মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

বর্তমানে এয়ারলাইন ও ভ্রমণশিল্পের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ইল্ডের ওপর অনবরত চাপ, আমাদের অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অনিশ্চিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়ের ওপর আমরা লাগাম টেনে ধরছি এবং একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি ও বিজনেস প্রসেসের বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অপারেশন টিম এবং সকল স্টাফের ব্যক্তিগত ভূমিকা এবং সর্বোচ্চ নিষ্ঠার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আপেক্ষাকৃত ভালো আর্থিক ফলাফলের আশা করছি। তবে সন্দেহ নেই যে ২০১৮-১৯ এমিরেটসের জন্য ছিল কঠিন একটি বছর। তেলের উচ্চ মূল্য, তীব্র প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক মার্কেটগুলোতে চাহিদার নিম্নগতি এবং প্রতিকূল মুদ্রা পরিস্থিতি আমাদের অর্জিত মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

আহমেদ খুরি এক্সপো ২০২০ উপলক্ষে বলেন, অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে নেটওয়ার্কভুক্ত ৮৬টি দেশের ১৫০টির বেশি শহরের মাধ্যমে ভিজিটরদের দুবাই নিয়ে আসার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এমিরেটস। এক্সপো ২০২০-এ আগমনকারী ভিজিটরদের প্রায় ৭০ শতাংশই আকাশপথে ভ্রমণ করবেন। ১৯০টি দেশ ইতিমধ্যে এক্সপো ২০২০-এ তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে ৬৭টিতে এমিরেটস বর্তমানে বিরতিহীন ফ্লাইট সেবা প্রদান করছে। এমিরেটসের অন্যতম পার্টনার ফ্লাই দুবাইয়ের সহযোগিতায় এ সংখ্যা ৮০টিতে দাঁড়াবে। আমরা সম্প্রতি নিজস্ব প্যাভিলিয়ন উন্মোচন করেছি। আমাদের ফোকাস থাকবে বাণিজ্যিক এভিয়েশনের ভবিষ্যত্। ভিজিটরদের জন্য আমরা আল্ট্রা-ফিউচারিস্টিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি পরিকল্পনা রেখেছি। কেবিন ডিজাইন, এনার্জি এফিসিয়েন্সি, ফিউচারিস্টিক ম্যাটেরিয়াল এবং কম্পোজিট নতুন বায়োমেট্রিক টেকনোলজির অন্তর্ভুক্ত।’