সড়ক-মহাসড়কে হাটবাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পশ্চিমের জেলাগুলোর সড়ক-মহাসড়কের ওপর বিভিন্ন স্থানে বসছে হাটবাজার। এতে হাটের দিন ঐসব সড়কে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে প্রায় সব ব্যবসাকেন্দ্র ও হাটবাজারগুলো ছিল নদীকেন্দ্রিক। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব নদীই মৃত। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যগুলো সড়ক-মহাসড়কের পাশে থাকা খাসজমিতে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু দিনে দিনে হাটবাজারের সরকারি খাসের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা সড়ক-মহাসড়কের ওপর হাট বসাতে শুরু করে।

সরজমিনে জানা যায়, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ভাটই, গাড়াগঞ্জ, চড়ুইবিল, মদনডাঙ্গা, শেখপাড়া, ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের তেঁতুলতলা, বিষয়খালী, বারোবাজার, বারিনগর, চূড়ামনকাঠি, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের নগরবাথান, হলিধানি, ডাকবাংলা, সরোজগঞ্জ, ডিঙ্গেদাহ, ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের গোয়ালপাড়া, হাট গোপালপুর, আলমখালী, ইছাখাদা, কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের কোটচাঁদপুর, খালিশপুর, হাসাদহ, জীবনগর ও ডুগডুগিতে হাটবাজার বসে। সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে নসিমন ও ভ্যান যোগে কৃষি পণ্য বোঝায় করে চাষিরা হাটে আনে। হাটে জায়গা না হওয়ায় তারা রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করে কেনাবেচা করে। এতে সৃষ্টি হয় যানজট। বাসচালক রমজান আলী জানান, হাট বসার পর সকালের দিকে যানজট সৃষ্টি হয়। ভাটই হাটে আজ যানজট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাট ইজারাদাররা যানজট নিয়ন্ত্রণ করে না। এছাড়া শৈলকুপা ও কালীগঞ্জ পৌর শহরের মাঝে হাট বসে। সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাটবাজার ও দোকানপাটের তালিকা করা হচ্ছে। তারপর উচ্ছেদ করা হবে। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মুনিরা বেগম বলেন, হাটের দিনগুলোতে যাতে সড়কে যানজট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।