কামারখন্দে শীতলপাটি হারিয়ে যাচ্ছে

কামারখন্দের চাঁদপুরের শীতলপাটির চাহিদা এক সময় দেশব্যাপী সমাদৃত থাকলেও সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পে এখন দুর্দিন চলছে। এক সময়ে লোকশিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পাটিশিল্প। পাটি বেত কেটে তা সিদ্ধ বা শুকিয়ে বুনানো হয় পাটি। গরমের দিনে এই পাটি ব্যবহারে স্বস্তির নিঃশ্বাস বা দেহ-মন ঠান্ডা হয় বলেই একে শীতলপাটি বলা হয়।

সরজমিনে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষেরা জমি থেকে পাটি বেত কেটে আনছেন। পরে সেগুলো বিশেষ দা দিয়ে এক ধরনের বেতী সুতা বানিয়ে সেগুলো সিদ্ধ করে রোদে শুকানো হচ্ছে। বেতী সুতাগুলো রোদে শুকানোর পর তাতে নানা বাহারি রং দেওয়ার পর আবার রোদে শুকানো হচ্ছে। বেতী সুতা রোদে শুকানোর পর নারীশিল্পীরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন শীতলপাটি। জানা যায়, ৮০-৯০ দশকে এসব শীতলপাটি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে ব্যবহার হতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শীতলপাটি শিল্প। এ পাটির পরিবর্তে এখন প্লাস্টিক পাটি, চট-কার্পেট, মোটা পলিথিনসহ বিভিন্ন উপকরণ স্থান দখল করে নিয়েছে। শীতলপাটির বুনন ও চাহিদা কমলেও চাঁদপুর গ্রামের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নারীরা শত কষ্টেও তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এ গ্রামের ২০০ পরিবারের প্রায় ৮০০ নারী-পুরুষ তাদের জাত পেশা হওয়ায় এখনো টিকিয়ে রেখেছেন এ শিল্প। বর্তমানে প্রতিটি শীতলপাটি প্রকারভেদে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা পাটি তৈরির শিল্পী বানি দত্ত জানান, এক সময়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে শীতলপাটি বাধ্যতামূলক কিনত। বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে শীতলপাটি উপহার দিত। এখন আর সেদিন নেই। বর্তমানে শীতলপাটির কদর অনেকটা কমে গেছে। শীতলপাটির দাম কিছুটা বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি। পাটি ক্ষেত্রে ১৬০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পাই। একটি পাটি বুনতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। একটা পাটি বুনতে যে পরিশ্রম আর সময় লাগে সে হিসেবে আমাদের মজুরি অনেক কম।

একই গ্রামের শীতলপাটি ব্যবসায়ী ও শিল্পী বিল্লু চন্দ্র দাস জানান, পূর্বপুরুষেরা এ পেশায় ছিল। তাই ছোটবেলা থেকে এ পেশায় আছি। কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা জানান, গত দেড় বছরে পাটি তৈরির শিল্পীদের দুই বার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরো উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কীভাবে শীতলপাটির বাজারজাত বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।