ম্যাচ ফিক্সিংয়ে বাফুফের কাঠগড়ায় খেলোয়াড়-কোচ ও কর্মকর্তা

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের নিচের স্তরই হচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ (বিসিএল)। এবার এই লিগে পাতানো খেলা হয়েছে বলে সন্দেহ। অনেকেই এই অভিযোগে বাফুফের নজরে পড়েছে। যারা অভিযুক্ত কিংবা যাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাবে তাদেরকে বাফুফের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

এদের মধ্যে উত্তরার আজমপুর ক্লাবের দিকে সন্দেহের পাল্লাটা ভারী বেশি। কারণ, দল ঠিকমতো খেলছে না, কোচ একভাবে দল নামাচ্ছেন, আর মাঠে নেমে খেলোয়াড়রা হয়ে যাচ্ছেন আরেক রকম। নিজ দলের প্রতি এমন সন্দেহে আজমপুর ফুটবল ক্লাবের কোচ সাইফুর রহমান মনিকেও বাফুফের পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটির সভায় কাল ডাকা হয়। এই মনি সাবেক ফুটবলার। জাতীয় দলে খেলেছেন। ফুটবল অঙ্গনে তার বেশ নামডাক। সততার কারণেও তাকে অনেকেই আলাদা ভাবে সমীহ করেন। আজমপুর ফুটবল ক্লাবের কোচ থাকাকালীন তার নিজের দলের খেলা নিয়ে সন্দেহ হয়।

বাফুফেকে লিখিত অভিযোগ জানায় মনি। গতকাল সিলেট থেকে ফোনে মনি বললেন, ‘ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা আমিই প্রথম বাফুফেকে জানিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার দল নিয়ে রেসে রয়েছি। আচমকা দেখলাম আমার দল পিছিয়ে যাচ্ছে। ভালো খেলছে না। আমার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমার জানা আছে। খেলা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। ৭ এবং ৮ নম্বর ম্যাচ দুটি নিয়ে আমার সন্দেহ হলে আমি বাফুফেকে লিখিত জানাই। ৭ নম্বর ম্যাচটি নিয়ে প্রথম সন্দেহ হয়। ৮ নম্বর ম্যাচটার পর আমি নিশ্চিত হয়ে যাই ফিক্সিং হচ্ছে। দেশের ফুটবল এভাবে চলতে পারে না। আমাকে গতকাল ডাকা হয়েছিল বাফুফে ভবনে। আমি সেখানে সব কথা বলেছি। আমার কাছে যা যা মনে হয়েছে তা আমি জানিয়েছি।’

আজমপুর ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার জালাল উদ্দিন, রুবেল, ক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান মানিককেও বাফুফের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। কাওরান বাজার প্রগতি সংঘের ম্যানেজার মিজানুর রহমান, ফুটবলার আরিফ হাওলাদারকেও পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটির সামনে হাজির হতে হয়। সবাই সবার অবস্হান বলবেন। কী সিদ্ধান্ত হবে সেটি এখনই জানা যাবে না।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানিয়েছেন, মাত্রই কমিটির খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তদের ডেকে বসেছিলেন। জিজ্ঞাসা করেছেন, আরও বসবেন। প্রয়োজনে আবার ডাকা হবে। কিন্তু এখনই সব কথা বলা যাবে না। কমিটি আমাদেরকে জানাবে আমরা বাকি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করব।