পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর দেশ এখন চোরদের দখলে চলে গেছে। এখন আবার বিদেশি অনুদানের অর্থে তার দলকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ারও ষড়যন্ত্র চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
নিজের টুইটার হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন ইমরান খান। ভিডিওতে বর্তমান জোট সরকারকে বিশেষ করে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারকে একহাত নিয়েছেন ইমরান খান। কটাক্ষ করে বলেছেন, তাকে বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হটানোর পর চোরদের হাতে এখন দেশটা চলে গেছে। ২২ কোটি মানুষের ওপরে একটা আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইমরানের বক্তব্য, নিজের পছন্দের সরকার গঠনের অধিকার পাকিস্তানের প্রতিটি মানুষের রয়েছে। তাই খুব শিগগিরই ভোটের আয়োজন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইমরান খান বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিকদের আর্থিক অনুদান চেয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে গদিচু্যত করবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভিডিও বার্তা প্রকাশের আগে করাচিতে এক সমাবেশে ইমরান খান দাবি করেছেন, তাকে ষড়যন্ত্রের পেছনে আছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এন) নওয়াজ শরিফ। তিনি বলেন, দুই বার মিথ্যা কথা বলে নওয়াজ শরিফ পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি ফিরে আসার প্রস্ত্ততি নিচ্ছেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ অনুদানসংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন ইমরান।
তার দাবি, পিটিআইকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে বিদায় করার জন্য মামলা দেওয়া হয়েছে। ইমরান বলেন, আমি বলব, বিদেশি অনুদানের মামলা ও তার (শাহবাজ শরিফ) বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলার শুনানি এক সঙ্গে হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। কিন্তু তিনি যেদিন পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন সেদিনই এসব মামলা আকস্মিকভাবে স্হগিত করে দেওয়া হয়। এমনকি ঐসব মামলার সরকারি আইনজীবীকেও আদালতে উপস্হিত হতে নিষেধ করা হয় বলে ইমরান খানের আইনজীবী দাবি করেছিলেন।
ইমরানের আশঙ্কা তার এবং তার সাবেক মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্হা (এফআইএ) ও জাতীয় জবাবদিহি সংস্হা (এনএবি)। ইমরান আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের দেয়ালের দিকে ঠেলে দেন, তবে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, দেশ নয়। আমাদের শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।’
সমাবেশে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান দর্শক-শ্রোতাদেরকে তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য অনুরোধ করেন। যেন তারা বুঝতে পারেন, ইমরানকে অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করেছে কি না। যারা বিশ্বাস করেন ইমরানকে উত্খাতে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাদের হাত তুলে সমর্থন প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি। পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ইমরানের দাবি, তিনি যত দিন ক্ষমতায় ছিলেন, তত দিন মানবতার জন্য কাজ করেছেন। কোনো দেশের বিরুদ্ধে অবস্হান নেননি।