দেশীয় পণ্য ঐতিহ্য আর আভিজাত্যকে সঙ্গী করে বেইলি রোডের শাড়ির দোকানগুলো নজর কেড়েছিল নাটকপাড়ার ক্রেতাদের। সেখান থেকে শুরু করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উৎসব পার্বণে বেইলি রোডের ঢাকাই শাড়ির চাহিদা আর কদর বাড়ছিল দিনের পর দিন। আজও দেশীয় শাড়ির আমেজ নিয়ে চলছে এখানকার শাড়ি বিক্রয় কেন্দ্রগুলো। ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পণ্যনির্ভর এই এলাকার বিপণীবিতান আর সদ্য গড়ে ওঠা শপিং মল ও দোকানগুলো নিয়েছে প্রস্তুতি।
গতকাল বেইলি রোডের ঈদের কেনাকাটার খবর নিতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটা শুরু হলেও এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি। দোকানিরা বলছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে জমে উঠতে পারে। তারপরও তাদের বেচাকিনি মন্দ নয় বলে জানান তারা।
বেইলি রোডের ক্রেতাদের বেশির ভাগই নারী। এখানকার প্রধান আকর্ষণ টাঙ্গাইলের তাঁত ও ঢাকাই জামদানি। এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে দেশীয় মসলিন, মিরপুর, ডেমরা, কুমিল্লা, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তৈরি রং-বেরঙের কাতান, হাফ সিল্কসহ সুতিশাড়ি।
টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান জানান, মসলিন ও সুতির ওপর তান্তুস শাড়ি তাদের বিশেষ আকর্ষণ। এক রঙা জমিনে নানা রঙের সুতার নকশা করা তান্তুস শাড়ির দাম সুতির হলে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর মসলিন তান্তুস ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। এখানে পাওয়া যাবে এক্সক্লুসিভ জামদানি। দাম ১০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। ৪ লাখ টাকার জামদানি শাড়ি তৈরি করতে ৯ মাসের মতো সময় লাগে বলে জানান কামরুল।
সজনী শাড়ির দোকানের ব্যবস্থাপক মোতালেব হোসেন বলেন, সব রকমের ক্রেতাই এখন বেইলি রোডে আসে। অনেকেই ভারতের শাড়ির প্রতি আগ্রহ দেখান। তাই তাদের শো-রুমে রেখেছেন খাড্ডি বেনারসি। দাম ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। কোরা ১০ থেকে ১২ হাজার, তসর কাতান ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কাঞ্জিভরম ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও পাওয়া যাবে পঞ্চমকলি, অপেরা কাতান, কাঁঠাল কাতান, আলাপ কাতান, ভোমকা কাতান, খাদি কাতান, শিফন জরজেটসহ নানা রকম বিদেশি শাড়ি।
এসব শাড়ির মধ্যে আরো আছে দেশীয় টাইডাই করা শাড়ি। সাধারণ ঢাকাই জামদানি ৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। হাফ সিল্ক শাড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। বধূয়া, রমণী, আদি তাঁতঘর, নবরূপা, প্রিয়দর্শনী সজনী, টাঙ্গাইল শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, নাভিলা প্রভৃতি শাড়ির দোকান ছাড়াও দেশি ফ্যাশন হাউজ সাদা কালো, রঙ, অন্যমেলা, কে ক্র্যাফট, উনিশ কুড়ি, রুমঝুম, জেসমিন, উৎসব, অনন্যা, ঝলক, বধূয়া, বুনন, দেশালসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানারকম শাড়ি। যার মধ্যে ব্লক, এমব্রয়ডারি, এপ্লিক, স্কিন প্রিন্ট, বালুচুরি, টাঙ্গাইলের সিল্ক, কাতান, সুতি, পাবনার তাঁত ও কাতান, জুট কটন, জুট কাতান, হাফ সিল্ক শাড়ির চাহিদা বেশ। ডিজাইন ও কাপড় ভেদে এগুলোর দাম ৬৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে।
দোকানিরা জানান, অপেক্ষাকৃত কম দামের শাড়ির চাহিদা ও ক্রেতা বেশি।