রেলপথ বিভাগের গাজীপুরের ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের অস্থায়ী ১২ জন গেট কিপার ২১ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না। মানবেতর জীবনযাপন করছে তাদের পরিবার। অনেকের সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। বেতন না পাওয়ায় মাটি হয়ে যাচ্ছে ঐ ১২ পরিবারের ঈদ। অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর উদাসীনতায় লেভেল ক্রসিংয়ের ওই ১২ গেটম্যান দীর্ঘদিন ধরে বেতনহীন।
জানা গেছে, রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশল (পথ) বিভাগের অধীনে গাজীপুরের ধীরাশ্রম ও মীরের বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন গেট কিপারের বেতন আসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে। অস্থায়ী নিয়োগের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ১৩ হাজার ৫শ টাকা। কিন্তু ২১ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ।
গেট কিপাররা অভিযোগ করেন, কবে বেতন হবে তাও রেলপথ কর্মকর্তাগণ বলতে পারছে না। গেট কিপাররা ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি সাক্ষাত্ করতে চান না। উল্টো ধমক ও গালমন্দ করেন। ধীরাশ্রম লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কিপার মামুন মিয়া বলেন, ২১ মাস বেতন নেই। এদেশে রোহিঙ্গারাও ঈদে নতুন জামা-কাপড় ও টাকা পেয়েছে। চাকরি করেও আমাদের বেতন নেই। এক মাসের বেতন পেলেও জামা-কাপড় বাদ, সেমাই-চিনি কিনে ছেলেমেয়ের পাতে দেওয়া যেত।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ), টঙ্গী কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, এ দুই লেভেল ক্রসিংয়ের ১২ গেট কিপারের ২১ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী বেতনের টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ অগ্রিম রেলপথ বিভাগকে জমা দিয়ে থাকে। কিন্তু নতুন করে টাকা বরাদ্দ না দেওয়ায় ওই ১২ জনের বেতন ২০১৭ সালের জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি সর্বশেষ গত ৩ মে ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছেন। গেটম্যানদের বেতন না পাওয়া প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী এম ছালামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ‘বরাদ্দ পাওয়া গেলে বেতন দেওয়া হবে’ জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন।