তৃণমূলের ক্রিকেটারদের পুরস্কার দিচ্ছে সিসিডিএম

ক্লাব ক্রিকেটের ২০২১-২২ মৌসুম প্রায় শেষের পথে। ইতোমধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগও শেষ হওয়ার পথে।

সবসময় প্রিমিয়ার লিগ থাকে পাদপ্রদীপের আলোয়। সে তুলনায় ক্লাব ক্রিকেটের নিচের দিকের লিগগুলোর প্রতি কারোই নজর থাকে না। ওই সব লিগের পারফরমাররাও পান না বলার মতো স্বীকৃতি। এবার তৃণমূলের এসব ক্রিকেটারকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগের সেরা পারফরমারদের পুরস্কার দেবে সিসিডিএম। অর্থ না দিয়ে ক্রিকেটারদের উন্নতমানের ব্যাট, বল, হেলমেট, গ্লাভস, প্যাড দিচ্ছে লিগের নিয়ন্ত্রক সংস্হা। সঙ্গে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে বিসিবির অন্য কমিটিগুলোকেও চিঠি দিচ্ছে সিসিডিএম। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ক্যাম্পে তাদের সুযোগ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ব্যাটিং, বোলিং, অলরাউন্ডারদের মধ্যে পারফরম্যান্স বিচারে বেছে নেওয়া হচ্ছে শীর্ষ তিন জনকে। তিন বিভাগে মোট ৯ জন এবং তালিকায় থাকছেন শীর্ষ একজন উইকেটকিপার। সমাপ্ত হওয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগের এই তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। তারা পুরস্কার হাতে পেয়ে যাবেন ঈদুল ফিতরের পর পরই। একই ভাবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের ক্রিকেটাররাও পাবেন পুরস্কার।

দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে আম্বার স্পোর্টিং ক্লাবের পাপ্পু ৭৫২ রান করে সেরা ব্যাটার হয়েছেন। বোলিংয়ে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের মোহাম্মদ হারুন ৩৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষে। গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমির সজীব মিয়া ৪৩০ রান ও ২৭ উইকেটে সেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন। লালমাটিয়া ক্লাবের রইচ উদ্দিন ২১ ক্যাচ, তিনটি স্ট্যাম্পিং করে সেরা উইকেটকিপার নির্বাচিত হয়েছেন। তৃতীয় বিভাগে সেরা ব্যাটার উদিতি ক্লাবের সাগর ইসলাম আপন, তিনি ৭৯৪ রান করেছেন। একই ক্লাবের শাকির আহমেদ ৩৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হয়েছেন। অলরাউন্ডারদের মধ্যে বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের রাকিব হাসান ৪০৮ রান ও ২২ উইকেট পান এবং ২৪ ডিসমিসাল নিয়ে রেইজিং স্টার ক্রিকেট ক্লাবের রিফাত সানজিদ শিহাব সেরা উইকেটকিপার হয়েছেন।

দারুণ এই উদ্যোগ সম্পর্কে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সিসিডিএমের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘টাকা দিলে তো খরচ করে ফেলে। তাই উন্নত গিয়ারস বিসিবির মাধ্যমে কিনে দিচ্ছি। এরা যাতে ভালো মানের ব্যাট, প্যাড ব্যবহার করতে পারে। ওদের তালিকা এইচপি, গেম ডেভলপমেন্টে পাঠিয়ে দিচ্ছি। যাতে ওরা তাদের পরিচর্যা করার উদ্যোগ নিতে পারে। দেখেন একটা মৌসুম পর এরা হারিয়ে যায়। কেউ তো খবরই রাখে না। এরা যাতে কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পায়, সবার পরিচর্যা পায় এজন্যই করা। এরা অনেকেই ঢাকার বাইরের। ভালো স্পাইক, ব্যাট কিনতে পারে না। কিন্তু তারা ভালো পারফরমার। চেষ্টা করেছি যেন একটা নিয়মে দাঁড়ায়। প্রতি বছর যেন ওরা এটা পায়| তাতে ভালো খেলতে উত্সাহ পাবে।’