সড়কে নেই যানজট, ৩ ট্রেনের সূচিতে বিপর্যয়

ঈদ আনন্দে যোগ দিতে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন লাখো মানুষ। এতে চাপ বাড়ছে সড়কে। তবে যানজটের তেমন কোনো খবর নেই। বেশিরভাগ বাস ছাড়ছে সময় মতো। ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিন বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও গতকাল পর্যন্ত ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় পুরোপুরি কাটেনি। ঢাকা-রাজশাহী রুটের ধূমকেতু, ঢাকা-খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও ঢাকা-চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। তবে ঘরমুখো মানুষের ঢল সদরঘাটে।

ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে নয়টার দিকে স্টেশন ছাড়ে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চার ঘণ্টা বিলম্বে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়। আর খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস দুই ঘণ্টা বিলম্বে সকাল আটটায় ছেড়ে যায়। ট্রেনের এই বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে এই কদিন বিলম্বে থাকা রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যথাসময়েই কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। রেলপথ সচিব মোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার কমলাপুর থেকে তিনটি বিশেষ ট্রেনসহ ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তবে এই তিনটি ট্রেন ছাড়া অন্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। নীলসাগর ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে আজ সোমবার থেকে আরো একটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হচ্ছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল বলেন, যে ট্রেনগুলো দেরিতে কমলাপুরে পৌঁছেছিল সেই ট্রেনগুলোই ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ট্রেনই যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। গতকাল তিনটি বিশেষ ট্রেন (কমলাপুর থেকে ঢাকা-লালমনিরহাট, ঢাকা-ঈশ্বরদী, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ) ছেড়ে গেছে। আজ যুক্ত হবে ঢাকা-খুলনাগামী আরো একটি বিশেষ ট্রেন।

ভিড় নেই বাস কাউন্টারে :এবার সড়কপথের ঈদযাত্রাও রয়েছে স্বস্তিতে। মহাসড়কগুলোর কোনো পয়েন্টে তীব্র যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। ঈদের তিন বা চার দিন বাকি থাকলেও রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের তেমন চাপ দেখা যায়নি। গতকাল সকাল থেকে কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল ও গাবতলীর কাউন্টারগুলোতে আগাম টিকিটধারী ছাড়া তাত্ক্ষণিক যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, এবার মানুষ বাসে করে নির্ধারিত সময়েই বাড়ি ফিরতে পারছে। কোথাও যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল সদরঘাটে :লঞ্চে জায়গা পেতে অনেকেই সকালে ছুটেছেন সদরঘাটের দিকে। যদিও সকাল থেকে ঘণ্টা দুয়েক বৈরী আবহাওয়ায় লঞ্চ ছাড়া হয়নি। পরে ঝলমলে আবহাওয়ায় সদরঘাটে যাত্রীদের ঢল নামে। সকাল ১১টার দিকে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে, সঙ্গে নামে বৃষ্টি। অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুই নম্বর সংকেত জারি করে আবহাওয়া বিভাগ। এই পরিস্থিতিতে সদরঘাট থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে দুপুর ১২টার দিকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এসময় সদরঘাট পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সদরঘাট পরিদর্শনে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকও। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিমুলিয়া, আরিচা ও সদরঘাট যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি আমরা সন্তুষ্ট। সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হচ্ছে। আমরা তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি।