মির্জাপুরে ক্রেতাদের সমাগমে জমজমাট ঈদ বাজার 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র গরম উপেক্ষা করে দুই বছর পর ঈদ মার্কেট জমজমাট হয়ে উঠেছে। টাঙ্গাইলের শাড়ির দোকান ও থ্রি-পিচের দোকানসহ প্রতিটি মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ বিক্রেতারা নানা অজুহাত দিয়ে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) মির্জাপুর উপজেলা সদরের কয়েকটি মার্কেট ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত দোকানগুলো। উপজেলা সদরের কলেজ রোড, সিংগাপুর মার্কেট, বাংলাদেশ শপিং কমপ্লেক্সের, শরীফ মার্কেট, সৈয়দ টাওয়ার, সৈয়দ মনসুর টাওয়ার, তারা চাঁদ ম্যানশন, সবুজ বস্ত্রালয়, মসজিদ মার্কেট, চিনিখান মার্কেট, ঠান্ডু মার্কেট, অগ্রণী ব্যাংক মার্কেটসহ প্রতিটি মার্কেটের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

উপজেলা সদরের কলেজ রোডের মসজিদ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে ইব্রাহিম সুপার মাকের্টের মালিক ও ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম মিয়া (৪৪) এবং বাংলাদেশ শপিং কমপ্লেক্সের কাপড় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল গনি (৪৫) জানায়, দেশে মহামারী করোনার কারণে গত দুই বছর ব্যবসা ছিল একেবারেই মন্দা। দফায় দফায় লকডাউন হওয়ায় ঈদের আগে ও পরে দোকানপাট ছিল বন্ধ। দুই বছরে তার কয়েক লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর মহামারী করোনা কমে আসায় সরকার ঈদের আগে থেকে দোকানপাট খুলে দিয়েছেন। তবে নানা কারণে কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও পরেছেন বিপাকে। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনে যুদ্ধ চলার কারণেও বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব পরেছে। মহাজনরা পাইকারি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের বেশী দাম দিয়ে কাপড় আনতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা কাপড় কিনতে এসে বেশী দাম হওয়ায় ফিরে যাচ্ছে। তার মত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এমন অভিযোগ করেন। 

ক্রেতা কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৯) জানায়, এ বছর ঈদ মার্কেটে প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়ার মত অবস্থা। কসমেটিকস, জুতা, কামিজ, থ্রি-পিচ, টাঙ্গাইলের শাড়ি, লুঙ্গি, টি-শার্ট, ফতোয়া, পাঞ্জাবী, শার্ট, ওড়না, বাচ্চাদের জামা-কাপড়সহ প্রতিটি পণ্যের দাম বেশী। গত বছর যার দাম ছিল ৮০০শ টাকা, এবছর সেই পণ্য বিক্রেতারা দাম চাচ্ছেন ১৪০০শ-৪০০০ হাজার টাকা। সুমাইয়ার মত যারা ঈদের মার্কেট করতে এসেছেন তাদের অনেকেই এমন অভিযোগ করেন।

এদিকে কাপড়ের মার্কেটের পাশাপাশি ফলমূল, মাছ, মাংস ও সবজির বাজারেও একই অবস্থা বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। উপজেলা সদরের মার্কেট ও ফুটপাত ছাড়াও সদরের বাইরে মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নের মার্কেট, হাট বাজার ও বিপণী বিতানগুলোতে এ বছর ঈদ মার্কেট বেশ জমজমাট বলে ঐ সব এলাকার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাতগুলোতে পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। ঈদের আগে ও ঈদের পরের তিন দিন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে ঈদের আগে মার্কেট বন্ধ থাকায় জনসমাগম কম ছিল। এ বছর করোনা শূন্যের কোঠায় আসায় লকডাউন নেই। ঈদে ক্রেতাগন সহজেই মার্কেট করতে পারছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য প্রশাসন থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।