‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ধর্মীয় ও মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। দীর্ঘদিনের সেই সব জঞ্জালের ফলে এখন দেশ নানামুখী সংকটে আবর্তিত। আমারা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, সেই সময় শাড়ি পরে নারীরা চমৎকারভাবে চলাফেরা করতেন। আর এখন টিপ পরলেই বিতর্ক, যেন আমরা পেছনের দিকে হাঁটছি।’ সম্প্রতি টিপ পরা নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর গত ১৯ এপ্রিল কানাডার টরন্টোর ফেয়ারভিউ মলে দৈনিক ইত্তেফাককে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এক সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পথে টরন্টোতে যাত্রা বিরতি করেন মাহবুব উল আলম হানিফ। সেখানে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন। হানিফ দলের আসন্ন কাউন্সিল, বর্তমান রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ২১ এপ্রিল দেশের উদ্দেশে তার কানাডা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
এই প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে পঁচাত্তরের পরবর্তী সময় জিয়ার শাসনামলে। তিনি শাহ আজিজের মতো স্বাধীনতাবিরোধীকে প্রধানমন্ত্রী এবং অনেক রাজাকারকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন।’
আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক নিয়ে তিনি বলেন, ‘জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দলকে পরিচালনা করছেন। পঁচাত্তরের পরবর্তী এক ভয়াবহ দুর্দিন-দুঃসময় থেকে তিনি দলের হাল ধরে শুধু দলকে নয়, দেশকেও উদ্ধার করছেন। আমি দলের একজন সামান্য কর্মী হিসেবে তার নির্দেশে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি খুব ভালো করে জানেন, কাকে কোথায় দিলে দলের জন্য মঙ্গল হবে। ফলে কে হবেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক, তার বিচক্ষণতাই প্রমাণ দেবে।’
আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে সবচেয়ে আলোচনার বিষয়-কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক? সেখানে মাহবুবুউল আলম হানিফও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।
এক দেশে একাধিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আমাদের দেশে তিন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা আসলে একটা সংকট তো বটেই। সাধারণ বা সার্বজনীন শিক্ষা, ইংলিশ মিডিয়াম এবং মাদরাসাভিত্তিক। ফলে উচ্চবিত্তরা তাদের সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ান। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠান। তারা অধিকাংশই আর দেশে ফিরেন না। আর যারা ফিরে তারা সার্বজনীন শিক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে সমন্বয় করতে পারেন না। যেমন, বিসিএস পরীক্ষার সিস্টেমের সঙ্গে তাদের একটা গ্যাপ তৈরি হয়। যদিও কেউ কেউ ফিরে, ফিরে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আবার মাদরাসায় পড়েও তার বিপরীত চিত্র ঘটছে। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে বের হলেও নানা কারণে সিংহভাগ যুবক বেকার হয়ে পড়ছেন। তাদের সঠিক কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এই বহুমুখি শিক্ষা ব্যবস্থা সমতা আনার জন্য সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে এবং পদক্ষেপ নিবে।
প্রাসঙ্গিকক্রমে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে অসংখ্য মাদরাসা স্থাপিত হয়েছে। এক শ্রেণির উচ্চপদস্থ আমলারা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তারা চাকরির শেষ পর্যায়ে এসে ধর্মীয় সেবায় মনোনিবেশ করার ফলে অনেকটা তা হচ্ছে।’
শুধু দেশে নয়, বিদেশেও আমলা তথা রাষ্ট্রদূতেরা প্রতিনিয়ত বিতর্কিত কাজ করছেন, নানাভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন, সেবার নামে শাসকের ভূমিকা পালন করছেন, অভিবাসীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন, স্বরচিত আইন প্রণয়ন করেছেন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এই অভিযোগগুলো আমি শুনিনি। যদি তা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে খুবই দুঃখজনক।