মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল খেলোয়াড়দের ওপর কড়া নিয়ম আরোপ করেছেন দলের ইংলিশ কোচ শনলেন। বিশেষ করে ফেসবুক নিয়ে খুব সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অহেতুক ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকা যাবে না। রাত জাগা যাবে না। ফেসবুকে ক্ষণে ক্ষণে ছবি পোস্ট করা যাবে না। এমন কী অন্যের কোনো বিষয় নিয়েও মাতামাতি করা যাবে না।
গোল করলে কিংবা ম্যাচ জিতলে তা নিয়ে ফেসবুকে অতিরঞ্জিত কথা বলা যাবে না। আমি এই হয়ে গেলাম, ওই হয়ে গেলাম- এসব কোনো কথা লেখা যাবে না। বড় বড় কথা বলে ফেসবুকে লিখলে জরিমানা করা হবে। শনলেন বলেন, ফেসুবকে যদি কেউ নিজেকে নিয়ে হিরোগিরি দেখাতে চায় তাহলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।’
বুধবার মোহামেডান টেন্টে কোচের সঙ্গে কথা হয়। ইংলিশ কোচ খুব সাবধানী। খেলোয়াড়রা মাঠে যতটা না পারফরম্যান্স করছে, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রচার পাবে কেন। কোচ চাইছেন, আগে নিজেকে মেলে ধরো, যোগ্যতা দেখাও, তারপর সংবাদমাধ্যমে গিয়ে কথা বলো।
তিনি বলেন, ‘এখানে (বাংলাদেশে) দেখলাম খেলার আগেই তাকে নিয়ে মাতামাতি হয়। তারকা হওয়ার আগেই ছবি ছাপা হয়ে যায়। কোনো কোনো খেলোয়াড় আছেন, নিজের ছবি দিয়ে বড়াই করে নানা কথা বলেন। এমন কাউকে পাওয়া গেলে আমরা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করবো।’ সামনেই বসা ছিলেন ম্যানেজার নকিব। তিনিও মাথা নেড়ে কোচের কথায় সম্মতি দিলেন।
পেশাদার ফুটবল শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে। প্রথম তিন আসরে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন, আর মোহামেডান রানার্সআপ। এর পর থেকে লিগে মোহামেডান যেন ধাপে ধাপে নিচের সিঁড়িতে নামছে। যদিও তখন কোটি টাকার প্রথম সুপার কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু লিগে আজও শিরোপার দেখা পায়নি।
মোহামেডান ফুটবলে খুব ভালো দলও গড়ছে না। গত ছয়-সাত বছরের তালিকায় চোখ রাখলে যে কারো মনটা খারাপ হয়ে যাবে। মনে হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নয়, টিকে থাকলেই হলো। যেন সময়টা পার করো।
বলা হতো মোহামেডানে নতুন নেতৃত্ব এলে ফুটবলে জোয়ার আসবে। বছর গড়িয়ে গেলো, নতুন নির্বাচন হয়েছে, এবারও মোহামেডান যেন ধুঁকছে। যারা প্রিমিয়ার লিগের অন্যান্য ক্লাবে যেভাবে জায়গা করে নিতে পারে না, মূলত তাদের নিয়েই সাদাকালো দলের ফুটবল স্কোয়াড। কোচ নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন অন্যান্য ক্লাবের টেলএন্ডারদের নিয়ে মোহামেডানের মূলশক্তি। বাস্তবতা হচ্ছে, মোহামেডান নির্ভর করে ইংলিশ কোচের ওপর। তার পরিকল্পনায় ঝড়-ঝঞ্ঝা সামাল দেওয়া যায়। বড় বড় যেসব দল রয়েছে তাদের কাছে হেরে গেলেও সমস্যা নেই। কিন্তু অন্যান্য দলের বিপক্ষে পয়েন্ট পেতে হবে।
কোচ তো সেদিন বলেই দিয়েছেন, এই দলটা নিয়ে যদি চতুর্থ স্হান পাই সেটাই হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো। যত দিন ধরে মোহামেডান এভাবে ধুঁকছে এই সময়টায় যদি নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়া হতো তাহলে এখন ভালো মানের খেলোয়াড় পেয়েও যেতে পারতো। বাফুফে একাডেমির মিরাজুল ইসলামকে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা দিয়ে। ১৭ বছরের স্ট্রাইকার। নিজেদের পরিকল্পনা করলে এই টাকাও দিতে হতো না। উল্টো খেলোয়াড় বিক্রি করতেও পারতো।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ফিরতি লেগের জন্য ৩১ ফুটবলারের তালিকা জমা দিয়েছে বাফুফেতে। আগের যারা ছিলেন তাদের মধ্যে কিছু ফুটবলারকে ছেড়ে দিয়েছে। আর নতুন কিছু খেলোয়াড় দলভুক্ত করা হয়েছে। ৫ জন ফুটবলার নিয়েছে। এর মধ্যে দুজন ইংল্যান্ড প্রবাসী। তারা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত।
লিগের প্রথম পর্ব শেষে মোহামেডান ১১ দলের মধ্যে পঞ্চম স্হানে রয়েছে। ১১ খেলায় ৪ জয়, ৫ ড্র এবং হার দুটি। পয়েন্ট ১৭।