মহাদেবপুরের টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

টুপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মহাদেবপুর উপজেলার কয়েক হাজার নারী। পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে গ্রামে গ্রামে টুপি তৈরিতে নারীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। সারা বছর টুপি তৈরি হলেও ঈদ উপলক্ষে রমজান মাসে বেড়েছে কাজের চাপ। এতে সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন তারা। আর এসব টুপি দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও রপ্তানি হচ্ছে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রামচন্দ্রপুর, মধুবন, খাজুর, বিলমোহাম্মদপুর, সুজাইল, মাদিশহর, গোশাইপুর, দেবরপুর, শিবরামপুর, চাঁন্দাশ, রামরায়পুর, চককন্দর্পপুর, শিবপুর, শিবগঞ্জ, বাগডোব, ডিমজাউনসহ বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার নারী টুপি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিপুণ কায়দায় সেলাই ও ভাঁজ করে কাপড় দিয়ে বানানো এসব টুপি সুইয়ের ফোঁড়ে ফোঁড়ে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগররা। ইতিমধ্যেই এ উপজেলার তৈরি টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

টুপি তৈরির কারিগর তানজিমা, মিলি, মরিয়ম, কল্পনাসহ আরো অনেকেই জানান, তারা অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে মাসে ১ হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার আয় করছেন। টুপি তৈরির বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন তারা। এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপি সেলাই করে লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন বলেও তারা জানান।

টুপির কারিগর মুক্তা জানান, মহাজনরা তাদের টুপি তৈরির সুতা, কাপড়সহ যাবতীয় কিছু সরবরাহ করেন। সেই কাপড় ও সুতা দিয়ে টুপি সেলাই হলে তারা এসে আবার নিয়ে যায়। প্রতিটি টুপি সেলাইয়ে ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান। কাজ ও নকশার ওপর টাকার পরিমাণ কম-বেশি হয়। একজন নারী তার সংসারের কাজকর্মের পরও অবসর সময়ে কাজ করে প্রতি মাসে দুই-তিনটি টুপি সেলাই করতে পারেন। কেউ কেউ বাড়ির উঠানে বসে টুপি তৈরি করলেও অধিকাংশ নারীরা দলবদ্ধভাবে টুপি তৈরি করেন।

স্থানীয় টুপি ব্যবসায়ী মো. জাহেদুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমান জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে টুপির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। টুপির কারিগররা এ খাতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, টুপির কারিগররা চাইলে তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।