সোমবার রাতে সুনামগঞ্জের আরও একটি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেছে। এ নিয়ে বাঁধ ভেঙে ফসলহানির তালিকায় যোগ হলো ছোটবড় ২০টি হাওর। এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছয়টি বাঁধ রয়েছে। অন্যগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পবহির্ভূত।
বাঁধ ভাঙার ফলে সরকারি হিসাবেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার। তবে হাওর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। তবে আশার কথা এখনো মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণের চেয়ে বেশি পরিমাণ হাওরের ফসল রক্ষা পেয়েছে। আরো অন্তত ৭০ হাজার হেক্টর পরিমাণ বোরো ধান মাঠে আছে।
অগভীর হাওরের ফসল ঘরে উঠতে ২৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—এই তথ্য জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গভীর হাওরের ধান কাটা শেষ হবে ৫ মে। অগভীর হাওরের ধানগুলো তুলতে একটু সময় লাগে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত দেড় লাখ হেক্টর জমির ফসল কাটা হয়েছে।
হাওর রক্ষার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, মাঠে ধান থাকা অবস্থায় তারা হাওর ছাড়বেন না। তবে হাওর পাড়ের কৃষকেরা বলেছেন, ‘যার ২-৫ কেদার জমি ডুবেছে। তার তো ষোলো আনাই ক্ষতি হলো।’
স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কোন হাওরে কার কত জমি ডুবেছে সেটার তালিকা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের মানুষ মহা-সংকটে রয়েছেন। তারা না পারছেন নিজের জমি থেকে ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে, না পারছেন বাঁধ পাহারা দিতে। ঢল বন্ধ হলেও এখন রাতের কালবৈশাখী আরেক সমস্যার সৃষ্টি করে চলছে। ঝড়ের কারণে হাওর রক্ষা বাঁধ পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঝড় বৃষ্টিতে হাওর রক্ষা বাঁধগুলো এখন আরও নরম হচ্ছে।
রবিবার রাতে শাল্লার ছায়ার হাওরে প্রহরাবিহীন বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়ে যায়। সোমবার রাত ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়ায় সময় হালির হাওরের আছানপুর গ্রামের স্কুলের পাশের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, যে জায়গা দিয়ে বাঁধ ভেঙেছে সেখানে ধান কাটা শেষ। কৃষকেরা অবশ্য পানি থেকে ধান কেটে আনতে নেমেছেন হালির হাওরে। এখানে তেমন ক্ষতি হবে না বলে জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, হালির হাওরে ২০টি কমবাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৪৫৯ হেক্টর জমির ধান কাটতে সময় লাগবে না।
গত রবিবার শাল্লার ছায়ার হাওরডুবির পর সোমবার রাতে জেলার জামালগঞ্জে হালির হাওরের বাঁধ ভেঙে হাওর তলিয়ে যাওর ঘটনায় উদ্বেগের যেন শেষ নেই। ডুবে যাওয়া হাওর পাড়ের কৃষকদের আহাজারি থামেনি। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা ভবিষ্যতের চিন্তায় চোখে আঁধার দেখছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, হঠাৎ করে বাঁধের কিছু অংশে ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে ভেঙে যায়। রাত থেকেই কৃষক, শ্রমিক ও অনেকগুলো হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কেটে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, সোমবার পর্যন্ত জেলার ১৯টি হাওরে পানি ঢুকে ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।