অভিনয়-মডেলিংয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে আজম খান

বর্তমান সময়ের আলোচিত চরিত্রাভিনেতা আজম খান। নাটকের প্রিয় ‘বাবা’র অভিনয় শুরু শখের বশে ২০১৫ সালে। শখ একসময় পরিণত হয় ভালোবাসায়। পেশায় ব্যাংকার হলেও তিনি দ্বিতীয় পেশা হিসেবে অভিনয়কে বেছে নিয়েছেন। চুটিয়ে কাজ করছেন নাটক, টেলিফিল্ম, চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও এবং বিজ্ঞাপনচিত্রে। আসন্ন ঈদের কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

ঈদের কাজ প্রসঙ্গে আজম খান বলেন, বছরের শুরু থেকেই ঈদের জন্য কাজ করছি। নাটক, টেলিফিল্ম দুটোতেই কাজ করেছি। বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছি। আনুমানিক পনেরটি কাজ হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ হয় বলে সংখ্যাটা বাড়তে বা কমতে পারে।
ঈদ উৎসবে অসংখ্য নাটক– টেলিফিল্ম নির্মাণ করা হয়। দর্শক সব দেখার সময় করে উঠতে পারে না।

এ প্রসঙ্গে আজম খান বলেন, এখন অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল, ওটিটি অ্যাপ ও ইউটিউব চ্যানেল। একটি চ্যানেলে নাটক দেখার সময় বিজ্ঞাপন শুরু হলে অন্য চ্যানেলে চলে যাচ্ছে। সেখানে বিজ্ঞাপন এলে আরেক চ্যানেলে। এজন্য মানুষ নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিনোদন পাচ্ছে না। বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য অনুষ্ঠানের সময় নষ্ট হচ্ছে। এটি দর্শকের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা ঠিকই ওয়েব প্ল্যাটফর্মে সেই কাজ দেখে নিচ্ছে।

দর্শকের অভিযোগ গল্পে চরিত্র কমে যাচ্ছে। বাবা থাকলে মা থাকেন না। আবার মা থাকলে বাবা থাকেন না। খুব কম গল্পেই দু’জনকে একসাথে দেখা যায়।

আজম খান

এ বিষয়ে আজম খান বলেন, আমাদের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাজেট। বাজেটের কারণে নির্মাতাদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আমি বাবা–মা দু’জনই আছে এমন চরিত্রে অভিনয় করেছি; আবার শুধু বাবা আছেন এমন চরিত্রেও কাজ করেছি। তবে গল্প থাকে। আমাদের দেশ পরিবারতান্ত্রিক। আমরা পারিবারিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তাই প্রতিটি গল্পেই পরিবারের একটি ভূমিকা থাকে। মাঝে কমে গেলেও এখন পরিবারকেন্দ্রীক গল্প হচ্ছে। বাজেট বাড়লে যে চরিত্রের সংখ্যা বাড়বে তা নয়। কারিগরী বিষয়গুলোর মানও বাড়বে।

নাটকের মান নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী আজম খান। শুধু অভিনয় নয়, নির্মাণেও তরুণরা নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। তিনি ‘ভিউ’ বিষয়টিকে তাই অভিনয়শিল্পীদের কৃতিত্ব নয় বরং ভালো গল্প ও নির্মাণের ফলাফল হিসেবে দেখেন।

নিজের ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আজম খান বলেন, আমি দেরীতে শোতবিজে এসেছি। দেরীতে এলেও অনেক সেক্টরে কাজ করেছি বলে ভালো লাগা কাজ করে। বিজ্ঞাপনে অল্প সময়ে কাজ করা হয়। সিনেমায় ধরে ধরে কাজ করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতে ভালো লাগে। ২০১৮ সালে শুরু করে প্রায় ৪০টি ব্র্যাণ্ডের সাথে কাজ করেছি। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দর্শকের সাথে যোগাযোগ সহজ হয়।