এই সময়ের ছড়া

কী করবেন আবদুল মজিদ

মাস কেটে যায় রোজায় রোজায় এরপরে তো ঈদ—

ঈদযাপনে গ্রামে যাবেন আবদুল মজিদ।

ঈদ মানে তো ইলিকঝিলিক দারুণ খুশির দিন—

মনের পাখি পাখনা মেলে ভাবনা সীমাহীন।

মজিদ মিয়া চাকরি করেন ঢাকায় থাকেন তাই—

বউ-পরিবার গ্রামের বাড়ি; দূর বহু আত্রাই।

আসতে-যেতে দু’দিন লাগে, ছুটি পাওয়াও ভার

তাই তো মজিদ দু ঈদ ছাড়া যান না গ্রামে আর।

মাসে মাসে টাকা পাঠান, খান খুবই কম-কম—

আজেবাজে খরচপাতি করেন না একদম।

 

ঈদের দিনে বউ-বাচ্চার অনেককিছু চাই...

মাসে-মাসে দু-এক হাজার জমিয়ে রাখেন তাই।

আবদুল মজিদ গ্রামে যাবেন তাকধুমাধুমধুম..

খুশির চোটে হারাম হলো সারা রাতের ঘুম।

বউয়ের শাড়ি, মেয়ের কামিজ, বাহারি চপ্পল...

ছেলের জন্য জুতো-জামা, সঙ্গে ব্যাট ও বল।

আরো কত এইটা-ওইটা নিত্যজিনিস সব...

মজিদ মিয়ার মনের মধ্যে খুশির কলরব।

 

মাল-সামানা বেন্ধেবুন্ধে টিকিট কাটতে যান—

কিন্তু জীবন দুর্বিষহ, অবস্থা টান-টান।

রাত বারোটায় লাইন দিয়ে সকাল সাড়ে নয়—

ঠিক তখনই কাউন্টারের জানলা বন্ধ হয়।

ভেতর থেকে খবর এল টিকিট দেয়া শেষ...

আবদুল মজিদ কপাল ঠোকেন—হায় রে সোনার দেশ!

 

ট্রেনের টিকিট না-পেয়ে যান বাসের টার্মিনাল—

সেইখানেও দেখেন মানুষ দিচ্ছে রেগে ফাল।

ডবল টাকা দিয়েও বাসের টিকিট পাওয়া ভার...

আবদুল মজিদ থাপ্পড় মারেন কপালে চারবার।

কী করবেন আবদুল মজিদ—পান না ভেবে পথ;

কল্পনাতে দুলতে দেখেন বউয়ের নাকের নথ!