সারা দেশে উৎসবের আমেজ, গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জমে উঠেছে কেনাকাটা। বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। শেষ সময়ে ঈদের মার্কেটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। করোনা সংকটের পর তেমন বিধিনিষেধ না থাকায় মানুষ স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করছেন। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

শয়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :উপজেলার পুরান বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ দাউদ-নগর বাজার ও পৌর মার্কেটগুলোতে ক্রেতার ঢল দেখা যাচ্ছে। বিপণিবিতানসহ জুয়েলার্স, কসমেটিক্স ও দর্জির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী ও শিশুদের বেশি দেখা গেছে। শায়েস্তাগঞ্জ দাউদ-নগর বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. করম আলী বলেন, ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম নেয়নি। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতারা বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে নজরদারি রাখছেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ অজয় চন্দ্র দেব বলেন, প্রতিটি মার্কেট ও বিপণিবিতানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) :উপজেলা সদরের কয়েকটি মার্কেট ও ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর দোকানগুলো। উপজেলা সদরের কলেজ রোডের মসজিদ মার্কেটের দক্ষিণ পাশে ইব্রাহিম সুপার মাকের্টের মালিক ও ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম মিয়া (৪৪) এবং বাংলাদেশ শপিং কমপ্লেক্সের কাপড় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল গনি (৪৫) জানান, দেশে মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর ব্যবসা ছিল একেবারেই মন্দা। এবার সে অবস্থা নেই। কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৯) জানান, ঈদ মার্কেটে প্রতিটি পণ্যের দাম বেশি। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ বলেন, ঈদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মার্কেট এবং ফুটপাতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) :সরেজমিনে উপজেলার অভিজাত শপিং মল ওয়ান মাবিয়া সিটি সেন্টার, বটতলি জামাল মার্কেট, সদর ফরচুন দিপুমনি মার্কেট, নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, নারীরা নিজেদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন লিপস্টিক, নেইলপলিশ, আইলাইনার, আইশ্যাডো, ব্লাশন প্রভৃতি। এ ছাড়াও ঈদের নামাজ আদায় করতে টুপি, আতর, লুঙ্গি, গেঞ্জির দোকানে ভিড় দেখা যাচ্ছে ছেলেদের। ফুটপাত থেকে লুঙ্গি কেনার সময় মিজান নামের এক যুবক বলেন, শহর থেকে আসার সময় নিজের জন্য, পরিবারের জন্য সব নিয়ে এসেছি। এখান থেকে পরিবারের জন্য লুঙ্গি কিনছি।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) :প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে জুতা এবং তৈরি পোশাকের দোকানে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রতিটি জিনিসের দামই এবার বেশি বলে জানা গেছে। দাউদকান্দির বড় বাজারের শপিং মলগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গৌরীপুর বাজারের ভূঁইয়া গার্মেন্টসের মালিক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, গত দুই বছরে করোনার কারণে ঈদবাজারে বেচাকেনা না পেলেও এবার ভালো বেচাকেনা হচ্ছে।

হোমনা (কুমিল্লা) :মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতগুলোতেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। গত শনিবার উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ এবার বিক্রেতারা পোশাকের দাম অনেক বেশি নিচ্ছেন। হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, এবার রমজানের শুরু থেকেই বাজার তদারকি করা হয়েছে। যারাই অনিয়ম করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর বাজারসহ গ্রামের হাটবাজারগুরোতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদবাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। গত শনিবার সরেজমিনের পৌর শহর মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কসমেটিকস, জুতার দোকান, কাপড়ের দোকান, মুদিখানা দোকানসহ বিপণিবিতানগুলো ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বড় মার্কেট ও বিপণিবিতানের সঙ্গে সঙ্গে স্হানীয় গামার গলির মার্কেটও জমে উঠেছে। এই মার্কেটটি মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের মার্কেট হিসেবে পরিচিত। থানার অফিসার ইনচার্জ আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্হা হিসেবে পতিটি মোড়ে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে পুলিশি টহল।