ভারতের বিপক্ষে দশ ম্যাচের নয়টিতেই হারবে পাকিস্তান!

ওয়ানডে দ্বৈরথে ভারতের বিপক্ষে এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সামনে কখনো দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। চলতি বিশ্বকাপেও এর হেরফের হবার ‘আশঙ্কা’ দেখছেন না ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং। বর্তমান পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে দশ ম্যাচ খেললে নয়টিতেই হারবে বলে মত দেন তিনি।

স্বর্ণসময়টা অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছে পাকিস্তান। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিলো তারা। এর দুই বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেও সামপ্রতিক ফর্ম মোটেও সরফরাজ আহমেদের দলের পক্ষে কথা বলছে না। টানা দশ ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের মিশনে আসা দলটি অভিজ্ঞতার দিক থেকে বেশ পিছিয়ে আছে বলে জানান হরভজন। তার মতে, এ কারণেই ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জেতার সম্ভাবনা কম। সমপ্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে চেন্নাই সুপার কিংস স্পিনার বলেন, ‘পাকিস্তানের ফর্ম তেমন আহামরি নয় এবং তাদের ঝুলিতে অভিজ্ঞতারও অভাব আছে। অতীতে পাকিস্তানি দলগুলোকে হারানো কঠিন ছিলো কিন্তু তাদের বর্তমান দল ভারতের বিপক্ষে দশ ম্যাচের নয়টিতেই হারবে।’

অতীতে পাকিস্তান বেশ সমীহ জাগানিয়া দল হলেও বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কখনোই জিততে পারেনি তারা। তাই ১৬ জুনের মহারণে এই ‘অনভিজ্ঞ’ পাকিস্তান দলের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না হরভজন, ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই। অতীতে পাকিস্তান যখন দারুণ দল ছিলো তখনও ভারতকে হারাতে পারেনি তারা। তাহলে এখন হারাবে কি করে?’

তীব্রতার দিক থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি থেকে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচটিকে এগিয়ে রাখলেন ৩৮ বছর বয়সী এই স্পিনার। তবে তিনি এটাও বিশ্বাস করেন যে, ফেভারিট তকমার কারণে চিরপ্রতিদ্বন্দ্ব্বী পাকিস্তানের চেয়ে বেশি চাপে থাকবে তার দল, ‘ভারতের উপর বেশি চাপ থাকবে। যখন দুই লড়াকু দল লড়াইয়ে নামে, ব্যর্থতার ভয়টা শক্তিশালী দলের বেশি থাকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে গেলে দারুণ চাপের মুখে পড়তে হবে দলকে। কারণ আমি জানি তাদের বিপক্ষে হেরে গেলে ভারতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্য ম্যাচে কি ঘটেছিলো মানুষজন তা মনে রাখে না। কিন্তু যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলি আমরা, দর্শকরা সবকিছুই মনে রাখে। আর পাকিস্তানের হারাবার কিছু নেই, ভারতের বিপক্ষে জিতে গেলে তা উপরি পাওনা হিসেবেই দেখবে তারা। কিন্তু ভারত যদি হেরে যায় তা আমাদের জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে।’

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ইউনিস খানও অনভিজ্ঞতার ব্যাপারটিকে বড় করেই দেখলেন, ‘বর্তমান ভারতীয় দল খুবই অভিজ্ঞ এবং তাদের মূল খেলোয়াড়দের অংশটা একই সাথে অনেকদিন ধরে খেলছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বেশ প্রতিভাবান ও তরুণ একটা দল যারা কিছুদিন হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসেছে। কিন্তু এরা চাপ কি তা জানে না। পাকিস্তান চলতি বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো করেনি কিন্তু আমরা সবসময়ই একটু ধীরেসুস্থে শুরু করি। আশা করি ধীরে ধীরে আমরা প্রতিযোগিতায় ঢুকতে শুরু করবো।’ তবে ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন মনে করেন বোলিং লাইনআপ পাকিস্তানের পক্ষে নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইউনিস ভাই যেমনটা বললেন, চাপের মুখে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকা এবং ঘরের মাঠে বহুদিন ধরে না খেলাটা তাদের মাঠের পারফর্মেন্সেও বড় ধরনের ছাপ রাখবে। কিন্তু যদি ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালের দিকে দেখেন তাহলে দেখবেন তাদের দক্ষতা আছে, বিশেষত বোলিং বিভাগে। যদি যথেষ্ট পুঁজি থাকে তবে যে কোনো দলকে গুঁড়িয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে তারা।’