ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বচ্ছতার অভাব এমনকি যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আলোচিত অ্যাপারেল-টেক প্রতিষ্ঠান জিলিংগোকে। গেলো কয়েক বছরে তাদের ধারাবাহিকতা সফলতার বাইরে এমন অভিযোগুলো নানা সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে চাকরিচ্যুত করা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা অঙ্কিতি বোসকে। তার বরখাস্তের বিষয়টিকে কিছু গণমাধ্যম অবশ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জানা গেছে, জিলিংগোর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে 'গুরুতর অভিযোগ' পাওয়ার পরপরই অঙ্কিতি বোসকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ। তবে জিলিংগোর কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পরই অঙ্কিতি বোসকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অঙ্কিতিও একই দাবি করেছেন।
সেই বিতর্কের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান নওশাবা সালাউদ্দীনকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইটি প্রাইম রিপোর্ট বলছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, বরখাস্ত হওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন অঙ্কিতি বোস। এমন মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানকে মেইল করেছিলেন নওশাবা। ধারণা করা হচ্ছে, এর পরিপ্রেক্ষিতেই নওশাবাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইটি প্রাইম রিপোর্ট বলছে, নওশাবার মেইলে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজে প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হলেও তার অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যমে সামনে জিলিংগোর মুখপাত্রের বিবৃতি ও এর জবাবে বুর্দা প্রিন্সিপাল ইনভেস্টমেন্টস কোম্পানির এক বোর্ড সদস্যের কাছ থেকে তিনি যে দুর্ব্যবহার করেছিলেন সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
সূত্র বলছে, এমন পরিস্থিতিতে কেনো প্রতিষ্ঠানের নীতি ভঙ্গ করা হয়েছিল সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নওশাবা। তার দাবি, জিলিংগোর পক্ষে দেওয়া বিবৃতি বাস্তবে ভুল ছিল। তবে নওশাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন বলে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বছর সাতেক আগে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে জিলিংগোর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অঙ্কিতি বোস ও ধ্রুব কাপুর (প্রধান প্রযুক্তি এবং পণ্য কর্মকর্তা)। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করাই এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল। ২০১৯ সালে জিলিংগো সিকোইয়া এবং টেমাসেক-সহ নামজাদা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে $২২৬ মিলিয়ন রেইজ করেছিল। সেই সময়ে কোম্পানিটির ভ্যালুয়েশন ৯৭০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর।