ঈদের ফুল ফুটুক সবার মাঝে

একমাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পর আসে মুসলমানদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারাবিশ্বে এই দিনটি মুসলমানরা যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করে থাকে। পবিত্র এইদিনে ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের সকলের একসঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা উচিত। যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না কোনো অহংকার, থাকবে না কোনো হিংসা। যেখানে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আমরা নামাজ আদায় করবো। নামাজের পর কোলাকুলি করবো, একে-অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবো। আজকাল এসব হয় ঠিকই, কিন্তু কোথায় যেন একটু কমতি থাকে! যখন আমরা দেখি একই রাস্তার একপাশ দিয়ে একটি শিশু তার বাবার হাত ধরে নতুন পাঞ্জাবি পরে মসজিদের দিকে যাচ্ছে, আর অন্য পাশে অন্য আরেকটি অনাথ শিশু ছেঁড়া জামা পরে রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি করছে। তখন সেই ঈদ আনন্দ সবার আনন্দ হয় না। আমরা বর্তমান সমাজে এখন প্রায়ই দেখে থাকি উচ্চবর্গদের মাঝে ঈদের সময় নতুন পোশাক কেনার হিড়িক পড়ে যায়। কে কত দাম দিয়ে তার সন্তানকে কত বেশি পোশাক কিনে দিবে তার অসুস্থ প্রতিযোগিতা লেগে যায়। অথচ আমাদের বাসার পাশেই হয়তো কোনো অনাথ শিশু দু’বেলা পেটভরে খেতেও পারে না, নতুন জামা তো আরো দূরের বিষয়! আমরা যদি আমাদের সন্তানদের অনেক জামা কেনার পরিবর্তে একটি জামা দিয়ে, বাকি টাকা দিয়ে একটা অনাথ শিশুর জন্য একটি জামা কিনে দিই, তাহলেই সেটা ঈদের প্রকৃৃত আনন্দ হবে। আবার আমরা যখন বাবামা’র সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে খুশিতে মেতে থাকি, তখন আরেকদিকে বৃদ্ধাশ্রমে সন্তানহীন নিঃস্ব জীবনযাপন করেন কিছু অভাগা পিতামাতা। 

যারা তাদের সন্তানদের থেকে নিগৃহীত হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে ওই চার দেয়ালের মাঝে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। ঈদের দিন তাদের সঙ্গে গিয়ে একবেলা কাটানোই হচ্ছে প্রকৃত সুখ। তাদের কাছে গিয়ে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে কিছু খাবার খেয়ে তাদের হাতে সামান্য কিছু উপহার দেওয়াই হচ্ছে ঈদের আনন্দ। আমরা ক’জন করি এই কাজগুলো! আমাদের সময় কই! আমরা তো আছি কে কত টাকার পাঞ্জাবি কিনেছি, কাদের বাসায় কত রকমের পদ রান্না হয়েছে এসব নিয়ে। এসব করতে গিয়ে আমরা সমাজের এই অংশের কথা ভুলে যাই। পবিত্র এই দিনের আনন্দ কারো একার না। এটা সবার অধিকার। আমি নিজে পরিবার নিয়ে আনন্দে দিন কাটাবো, আর অন্যপাশে অনাথ শিশুটা অনাহারে দিন কাটাবে, বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় পিতামাতা মৃত্যুর প্রহর গুনবে এটা যথার্থ নয়। মহান আল্লাহতাআলাও এটা পছন্দ করেন না। ধনী-গরিবের মাঝে এই বৈষম্য দূর করতেই তিনি যাকাতের বিধান দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে ধনীদের সম্পদে গরিবের হক রয়েছে। ধনীরা যদি সেই হক গরিবদের না দেয় তবে তারাও প্রকৃত মুসলিম না। আমাদের সমাজে যারা উচ্চবিত্ত আছে, যাদের অঢেল সম্পদ আছে তাদের অবশ্যই সমাজের পশ্চাত্পদ অংশকে সাহায্য করা উচিত। তা না হলে সমাজে ভারসাম্য থাকে না। পবিত্র এইদিনে যারা আমাদের বাসায় সারাবছর কাজ করে তাদেরকে তাদের পাওনাসহ বোনাস সময়মতো দিয়ে দেওয়া উচিত। সামর্থ্যানুযায়ী তাদের পরিবারকে সাহায্য করা উচিত। শ্রমিকদের তাদের পাওনাসহ বোনাস দিয়ে হাসিমুখে একটা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত যে তারা সারাবছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এত কষ্ট করে আমাদের জন্য। পবিত্র এইদিনে রিকশাচালক বা ভ্যানচালককে ৫/১০ টাকা বেশি দিয়ে একটা সুন্দর হাসি দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন দেখবেন লোকটি কত খুশি হয়। এগুলোর মাঝেই ঈদের প্রকৃত সুখ, প্রকৃত আনন্দ নিহিত। তাই সমাজের কাছে আমাদের প্রত্যাশা পবিত্র ঈদের ফুল যেন কোনো এক শ্রেণির মাঝে না ফুটে, সকলের মাঝে ফুটে তার সুবাস ছড়ায়।

n  লেখক : শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।