সুন্দরবন থেকে আসা রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি শরণখোলার লোকালয়ের আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার (৬ মে) রাতে পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামের মানুষ বাঘ আতঙ্কে রাত যাপন করেছেন। বনবিভাগ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করেছে।এদিকে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জানিয়েছেন, তিনি বাঘের পায়ের ছাপও দেখেছেন।
শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন হাওলাদার জানান, তিনি শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মাঠে গরু খুঁজতে গিয়ে টর্চের আলোতে মাঠের মধ্যে একটি বাঘ দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে মানুষজন এগিয়ে আসেন, এসময় বাঘটি পালিয়ে যায়।
শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের বানিয়াখালী ওয়ার্ড মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান গাজী বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দূরে লোকালয়ে বাঘ আসার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায়। বাঘের খবরে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকার মসজিদ থেকে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।’
মেম্বার জানান, খবর পেয়ে শনিবার (৭ মে) সকালে ধানসাগর ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামে বাঘের খোঁজ খবর নেন। তারাও জনগণকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত দুই মাস ধরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বন থেকে শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর, উত্তর রাজাপুর, ধানসাগর টগড়াবাড়ীসহ আশেপাশের গ্রামে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ২/৩টি গরু-মহিষ বাঘের হামলার শিকার হয়েছে। বাঘের ভয়ে ওই এলাকার মানুষ রাতে চলাফেরা বন্ধ করেছেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন বলেন, ‘গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি দল পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামে যায়।’
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘লোকালয়ে যাওয়া বাঘটি একটি বাচ্চা বাঘ অথবা মেছোবাঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বনরক্ষীরা বাঘটিকে খুঁজে বনে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমসহ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।’