ঈদে বাড়ি ফেরা

সড়ক-নৌপথ স্বাভাবিক, বিলম্ব কেবল ট্রেনে

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর রেলস্টেশন, দূরপাল্লার বাস কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে এবার অনেকটা স্বস্থিতেই মানুষ ঘরে ফিরতে পারছে। সড়ক, নৌপথ স্বাভাবিক থাকলেও বিলম্ব হচ্ছে ট্রেনের শিউিউলে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে পঞ্চিমাঞ্চলে ৪টি ট্রেন ২ থেকে ৫ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। গত তিনদিন ধরেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে রেলপথে ভোগান্তি ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ অন্যান্য রুটের ট্রেন। এখন পর্যন্ত সড়কপথে ভোগান্তি নেই। সদরঘাট, পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক।

এদিকে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-পূর্ব বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও জেলার অন্যান্য স্থান থেকে যাবে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। গাজীপুর থেকে যাবে ২৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আর ১১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে। এই বিপুলসংখ্যক ঘরমুখো যাত্রীর ৫৫ শতাংশ সড়কপথে ও ২৫ শতাংশ নৌপথে যাবে। বাকি ২০ শতাংশ যাবে রেলপথে।

ট্রেন যাত্রা

গতকালও ৫ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে গত ৩ দিন ধরে ধারাবাহিক শিডিউল বিপর্যয়ে পড়া চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস। একইভাবে লালমনিরহাটগামী ঈদ স্পেশাল লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুরগামী ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস, খুলনাগামী ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। একই সঙ্গে অন্য ট্রেনগুলোও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছু দেরিতে চলাচল করেছে। এ অবস্থায় বিপর্যয়ে পড়া ট্রেনগুলো ঈদের আগে নির্ধারিত শিডিউলে ফেরানো যাবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল বলেন, কমলাপুর স্টেশন থেকে গতকাল ৪টি বিশেষ ট্রেনসহ ৫৬টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে ৪টি ছাড়া সব ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে।

শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে রেলপথ সচিব মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না।

সদরঘাট ঘরমুখো মানুষের ঢল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। দুপরের আগেই বেশিরভাগ যাত্রী সদরঘাট টার্মিনালে এসে ভিড় করেছেন। লঞ্চ টার্মিনালে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ছুটছে লঞ্চের দিকে।

এদিকে অবাক করার মতো ঈদ যাত্রার এমন দিনে শিমুলিয়া ফাঁকা। ছিল না কোনো যানজট। শুক্রবার থেকে মূলত ঈদযাত্রা শুরু হলেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এর শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন কোনো চাপ ছিল না। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের চাপে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে মানবজটের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল যাত্রী চাপ ছিল সর্বাধিক। এরপরও ঘাটে কোনো ধরনের যানজট ছিল না। সব ফেরি সচল থাকায় যানবাহন খুব দ্রুত সময়ে পারাপার হতে পেরেছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, এবার মানুষ বাসে করে নির্ধারিত সময়েই বাড়ি ফিরতে পারছে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও অপরাধ) সাইদুর রহমান বলেন, গত দুইদিন থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্তু তেমন যানজট বা গাড়ির চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে দুপুরের পর গার্মেন্টসগুলো ছুটি হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে।