লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৮ আসন পেলেও এখনই বিধানসভা নির্বাচন হলে জিতবে তৃণমূল কংগ্রেসই। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবনে এক পর্যালোচনা বৈঠকে এ দাবি করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আরো বলেন, ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোট হোক। লোকসভা ?নির্বাচনে ভোটের ভিত্তিতে ১৬৪ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১৪৮ আসন দরকার। আমাদের তা রয়েছে। বিজেপি বলছে, ওদের সঙ্গে তৃণমূলের ৫০ এমএলএ যোগাযোগ রাখছে। তাহলেও তো ওদের সরকার হবে না। সিপিএম, জাতীয় কংগ্রেসের ৭৭টি আসন রয়েছে। ওরা কি ভাবছে সেটাও ওদের দিকে চলে যাবে। মমতা বলেন, লোকসভা, বিধানসভা, পৌরসভা, পঞ্চায়েত প্রতিটি ভোটেই আলাদা সমীকরণ হয়। লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তো পায়নি, মাত্র ১৮টা পেয়েছে। সেটাও কৃত্রিম। তাই হারার ভয় পাচ্ছে। সেই ভয়ে জোর করে পার্টি অফিস দখল করছে, বাইক বাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
মমতা আরো বলেন, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর জাতীয় কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৬ আসন পেয়েছিল। সেটা ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস জোট করে ২৬ আসন পেয়েছিল। সেটাও স্বতঃস্ফূর্তই ছিল। এবারে বিজেপির ১৮ আসন প্রাপ্তি কিন্তু সেরকম নয়। ফলে ওরা ভয় পাচ্ছে। ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, মাত্র ২ শতাংশ ভিভিপ্যাট গোনা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশ যে আগে থেকে প্রোগ্রামিং করা ছিল না, তা কে বলতে পারে। আবার ভোটে যে সব ইভিএম খারাপ হয়েছিল, সেগুলো পাল্টানো হয়। কিন্তু সেগুলো মক পোল করে ঠিকঠাক চেক করা হয়েছিল কি না, তা জানা নেই। ওইগুলোতেও আগে থেকে প্রোগ্রামিং করে রাখা হতে পারে। তাই ‘?গণতন্ত্র বাঁচাও, ব্যালট ফিরিয়ে দাও’ আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু হবে। যা গোটা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা আসন রয়েছে ২৯৪টি। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১২১ আসনে এগিয়ে রয়েছে। জাতীয় কংগ্রেস ৯টি। তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ১৬৪ আসনে। বামেরা একটিও আসনে এগিয়ে নেই। তবে সব থেকে উদ্বেগের বিষয় হলো,? তৃণমূল কংগ্রেসের ১৭ জন মন্ত্রী পিছিয়ে রয়েছেন। তাই ফল পর্যালোচনা করতেই সোমবার তিনি এ বৈঠক করেন।