আড়াইহাজারে জেনারেটর বিস্ফোরণে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

কারখানার বিদ্যুতের লাইন স্পার্ক করে জেনারেটর বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে নাজমুল মিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মে) সকালে মারা যান বড় ভাই শামীম মিয়া। ১০ ঘণ্টা ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। দুই ভাই আড়াইহাজার পৌরসভার চামুরকান্দি চৌরাবাড়ি এলাকার আব্দুল করিমের সন্তান। 

এর আগে, রবিবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় ফ্রেশ স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলে বিদ্যুতের লাইন স্পার্ক (আগুনের জলক) করে জেনারেটর বিস্ফোরিত হয়। এতে শামীম, নাজমুল ও বাসার দগ্ধ হন। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা শখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. আইউব হোসেন দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছোট ভাই নাজমুল মিয়ার শরীরের ৬১ শতাংশ ও বড় ভাই শামীম মিয়ার ৪৮ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তাদের দু’জনের শরীরে ইলেকট্রিক বার ছিল। অপর শ্রমিক বাসার এখনও আশঙ্কামুক্ত নন বলে এই চিকিৎসক জানান।

araihazar

দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চামুরকান্দি চৌড়াবাড়ি এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় সোয়া ৭টার দিকে লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছালে একনজর দেখতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। 

নিহত নাজমুলের চাচা সৌরভ মিয়া জানান, রূপগঞ্জের ফ্রেশ স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলে গত পাঁচ বছর যাবৎ তারা ইলেক্টিক শাখায় কাজ করতেন। প্রতিদিন সকাল ৭টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে রাত ৮টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতেন। তাদের পরিবারের বাবা-মাসহ দুই ভাই এক বোন ও সবার বড় নাজমুলের স্ত্রী ও তাদের চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নাজমুল আর শামীমের আয়ের পুরো পরিবারটি পরিচালিত হতো।

স্বামী শামীমকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্ত্রী রুনা আক্তার। তার একমাত্র সন্তান আব্দুল্লাহ এখনও জানে না তার বাবা নেই। রুনার জানান, রবিবার ভোরে প্রতিদিনের মত চার বছরের ঘুমন্ত শিশু সন্তান আব্দুল্লাহর গালে চুমু খেয়ে শামীম তার ভাইকে নিয়ে কাজে যোগদানে জন্য বেড়িয়ে পড়ে। কে জানত এই চুমুই আব্দুল্লাহর শেষ চুমু। এসময় নিহত নাজমুল ও শামীমের মা সাবিনা আক্তারের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সন্তান হারানোর শোকে বার বার মাটিতে মুর্ছা যাচ্ছেন। আশপাশের যাকে পাচ্ছেন তাদের কাছে নিয়ে সন্তানদের এনে দেওয়ার কথা বলছেন। 

মা সাবিনা আক্তার জানান, ছোট ছেলে নাজমুল বেড়ানোর জন্য ঈদের পর আরও কিছুদিন কাজ থেকে বিরত থাকতে চেয়ে ছিল। শামীম নাজমুলকে সাথে যাওয়ার কথা বললে তারাও তাকে এক প্রকার জোর করে কাজে পাঠান। এই কথা বলে ফের কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।